এনামুল হক কাশেমী, বান্দরবান প্রতিনিধি:: প্রকাশ্যে দিবালোকে বান্দরবান পৌর এলাকায় সাংগু নদীর নানাস্থান থেকে বালু উত্তোলন ও পাচার কারবার দিব্যি চললেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন ও পাচারের কারণে পরিবেশ দ্রুত ভারসাম্য হারাচ্ছে। নদী থেকে বালু উত্তোলনও পাচার কাজে স্থানীয় ২জন আওয়ামীলীগ নেতা সরাসরি জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ রযেছে।
বান্দরবান জেলা শহরের কালাঘাটার ৩নং ওয়ার্ডের কাশেমপাড়া এলাকায় (কালাঘাটা চাইংগ্যার সীমানা) সাংগু নদীর চর ও তীর থেকে প্রতিদিনই প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন এবং ট্রাকে ট্রাকে পাচার করা হচ্ছে। সরকারি কোন রাজস্ব প্রদান ছাড়াই নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু পাচার অব্যাহত থাকায় এলাকার সচেতন নাগরিকরাও বিপাকে পড়েছেন।
ঘটনাস্থল খোদ পৌর এলাকার ভেতরে হওয়া সত্বেও এসবরোধে প্রশাসনের কোন নজরধারী না থাকার বিষয়টি রহস্যজনক এবং লজ্জাস্কর বলেও নাগরিকরা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। নদীর বালু খেকোরা সরকারি দলের প্র্রভাবশালী নেতা।
তারা সাংগু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ট্রাকে করে পাচারের কাজে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতি মিনিট্রাকে ২৫০ টাকা এবং বড়ট্রাক ভর্তি বালুর জন্যে আদায় করা হচ্ছে ৪০০ টাকা হারে। বালু উত্তোলন ও পাচার কাজের তদারকিতে ঘটনাস্থলে থাকা ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরমান বলেন,ইটভাটার এক মালিকের নির্দেশেই ট্রাকে করে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে টাকার বিনিময়ে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাংগু নদীর চাইংগ্যাসহ নানাস্থান থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনও পাচার কারবার চলছে বহুদিন ধরে। কোন কোন এলাকায় স্কেভেটরও ব্যবহার হচ্ছে।
সম্প্রতি স্কেভেটর ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একটি স্কেভেটর জব্দ ও এক বালু বেপারীকে জরিমানাও করা হয়েছিল বলে পুলিশ সুত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মংগলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে এ মাত্র জানা গেছে, ঘটনাস্থলে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেটকে পাঠানো হয়েছে। বালুু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।



