ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রেখে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। তবে তাঁর নিজের মন্ত্রিসভা এবং দলে যে সংসদ সদস্য  রয়েছেন, তারা ঋণগ্রস্ত। তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন? দেশের মানুষ সেটা জানতে চায়। সেই ঋণ পরিশোধ করে তারপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে মনে হয়নি এটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং আমরা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছি। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। ২৫ জেলা থেকে  মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। অর্থাৎ এখানে একটা আঞ্চলিক বৈষম্য স্পষ্টভাবে রয়েছে। এ মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। কিছু তরুণ নেওয়া হলেও মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০ বছর। অর্থাৎ আমরা যে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের কথা বলেছি, তার প্রতিফলন এই মন্ত্রিসভায় দেখতে পাইনি।

তিনি বলেন, এই মন্ত্রিসভায় প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়। কিন্তু মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত। যখন অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসায়ীকে মন্ত্রিত্ব দিবেন, তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। জনগণের স্বার্থ দেখবে না।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ আরও বলেন, সবচেয়ে বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি। দলেও তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন। শুধু আর্থিক, ব্যবসায়িক এবং দুর্নীতির কারণেই তাঁকে সে মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ঋণের পরিমাণ  ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন– এমন একজনকে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়, তাহলে জনমনে প্রশ্ন আসবে। আমরা আশা করব, এই প্রশ্নের সুরাহা প্রধানমন্ত্রী করবেন।

তিনি বলেন, দু-একদিন ধরে দেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের একটা প্রচেষ্টা চলমান আছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কার্যত এবং আইনত নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এই যে আওয়ামী লীগ কার্যালয়গুলো খোলা হচ্ছে, প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে– আমরা মনে করি, প্রশাসন এবং সরকারি দলের প্রশ্রয়ে এটা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here