এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির, খুলনার খালিশপুর থেকে ::

খুলনার খালিশপুরের গর্বিত কৃতি সন্তান কবি মোঃ রহমত আলী সাহিত্যের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। তার সাহিত্যিক যাত্রা এক বিচিত্র পথে চলতে থাকলেও আজ তিনি বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে এক অত্যন্ত সম্মানিত নাম। তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, এবং বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যকর্ম দেশে ও বিদেশে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

কবি মোঃ রহমত আলীর সাহিত্য চর্চার শুরু ছোটবেলা থেকেই, যখন তিনি খালিশপুরের স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রাথমিক লেখার ধরন ছিল বাচ্চাদের জন্য ছড়া ও কবিতা, যা এক সময়  পত্রিকায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে তার লেখার ভাণ্ডার বিস্তৃত হতে থাকে, এবং তিনি প্রতিষ্ঠিত হতে থাকেন সাহিত্য জগতে। আজ তার লেখা অনেকগুলি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, খুলনা থেকে ও দেশের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত, এমনকি ভারতীয় সংবাদপত্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিডিয়াতে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

একক বই ও যৌথ গ্রন্থের সাফল্য

কবি মোঃ রহমত আলী শুধু কবিতা ও ছোটগল্পেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি একাধিক একক বই এবং যৌথ বইও প্রকাশ করেছেন। তার কবিতা ও সাহিত্যকর্মে মানবিকতা, প্রকৃতি, সমাজের নানা অসঙ্গতি, এবং জীবনযাপনের সুন্দর দিকগুলো উঠে এসেছে। এসব বই পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তার “অন্ধ চোখে পানি”—এই কবিতার বই বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে।

এছাড়া, কবি রহমত আলী দেশজুড়ে সাহিত্যপ্রেমী এবং বিশেষ করে তরুণ লেখকদের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছেন। তার লেখা পাঠ করে অনেকেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন এবং লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেছেন। এই সমস্ত কর্মের জন্য তিনি বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সম্পাদনা ও সৃজনশীলতা: পত্রিকা ও মিডিয়া

বর্তমানে, কবি মোঃ রহমত আলী জাতীয় সাপ্তাহিক ‘আজকের জনকথা’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সম্পাদিত সাহিত্য বিভাগটি পত্রিকার মধ্যে অনেকটাই বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। তিনি নিয়মিত তরুণ লেখকদের কাজ প্রকাশ করে যাচ্ছেন, এবং সাহিত্যপাঠকদের জন্য সৃজনশীল রচনা উপস্থাপন করছেন। এছাড়া, তিনি “নতুনতারা” সাহিত্য সংস্থার সাহিত্য সম্পাদক, আলো মিডিয়া গ্রুপের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এবং দেশের বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ

সাহিত্যজগতের বাইরেও কবি মোঃ রহমত আলী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি বহু সামাজিক সংগঠন ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে তার নেতৃত্বে বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। তার জীবনযাত্রা এবং সাহিত্যকর্ম সমাজের নানা স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা জাগিয়ে তুলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি শুধু যে মানসিক উন্নতি ঘটায় তা নয়, তা সমাজে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা

কবি রহমত আলী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্যপ্রেম ও লেখালেখির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছেন। তার এই ধরনের কার্যক্রম তরুণদের সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে এবং অনেকেই এখন তার পথ অনুসরণ করে লেখক হতে আগ্রহী। তার নেতৃত্বে অনেক শিক্ষার্থী সাহিত্যচর্চায় নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে এবং অনেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছে।

বিপুল অনুপ্রেরণার উৎস

তার সাহিত্যিক জীবনের সাফল্য শুধু তার লেখার মাধ্যমে নয়, বরং তার জীবনদর্শন, সমাজসেবা, এবং মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার মাধ্যমে অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে। কবি মোঃ রহমত আলী জানান, “লেখালেখি আমার পেশা নয়, এটি আমার আত্মা। সমাজে শান্তি, মানবিকতা এবং ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করাই আমার জীবনের মূল লক্ষ্য।” তার উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় কিছু কবিতার নাম  তুলে ধরা হল। কি এ জীবন,
বর্ণ কথা কণা, হুঁশিয়ার, আত্মিক আলাপ, মৃত বৃক্ষের ছায়া, সারাংশ, ইনকিলাব, কলম কার, সাক্ষী পৃথিবী, হে বিশ্ববাসী, রাজ মন্ত্র, বিশ্ব পন্ডিত, জঙ্গম সার্কাস, এসো মানুষ হই, ও কচুরিপানা,  ইত্যাদি।”

কবি মোঃ রহমত আলী আজ শুধুমাত্র একটি সাহিত্যিক নামই নন, তিনি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক, যিনি সাহিত্যকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি অমূল্য ধন হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here