ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

বাংলাদেশে কার্যকর জলবায়ু উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সবার অংশগ্রহণ, সামাজিক সমন্বয় ও রূপান্তর জরুরি। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে নারী ও তরুণ সমাজকে—বিশেষ করে তরুণ নারীদের। এমন লক্ষ্য নিয়ে আমাল ফাউন্ডেশন উদ্বোধন করেছে তাদের নতুন উদ্যোগ ‘ফিউচার রুটস: ক্লাইমেট হাব ফর ইয়ুথ’

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মাজুমদার মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা তরুণ নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়নখাতের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে জলবায়ু কার্যক্রমে তরুণ ও নারীর নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইসরাত করিম বলেন, “ফিউচার রুটস আমাদের জন্য এমন একটি পদক্ষেপ, যেখানে তরুণ নারীরা জলবায়ু সহনশীলতা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের শক্তিই একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিকাঠি।”

প্রখ্যাত জিনবিজ্ঞানী অধ্যাপক আবেদ চৌধুরী বলেন, “জলবায়ু প্রশমণ ও অভিযোজনে লিঙ্গভিত্তিক দিকটি এখনো উপেক্ষিত। এই অবস্থার পরিবর্তনে জলবায়ু কার্যক্রমে নারীর ভূমিকা ও অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে।”

‘হিরোস ফর অল’-এর সভাপতি ডা. রেহ্‌নুমা করিম বলেন, “ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতার বিকল্প নেই। সমাজের প্রাথমিক স্তর থেকেই টেকসই সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে।”

প্যানেল আলোচনায় ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, “জলবায়ু ন্যায়বিচারের পথে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে নীতি ও অর্থায়নের প্রতিটি স্তরে তাদের কণ্ঠস্বর থাকতে হবে। নারীরা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত নয়, তারা সমাধানের অংশ—তাই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রে তরুণ নারী নেতৃত্বকে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু নীতিতে জেন্ডার-রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। স্থানীয় তরুণদের নেতৃত্বে অভিযোজন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।”

ফিউচার রুটস প্রকল্পের লক্ষ্য হলো তরুণ নারীদের নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সমাধান তৈরি, উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় সংগঠন ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে কাজ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ৫: জেন্ডার সমতা ও এসডিজি ১৩: জলবায়ু কার্যক্রম)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া।

অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘ইউমেন অ্যাট দ্য ফোরফ্রন্ট অফ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা, তরুণ নারী জলবায়ু ফেলোদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ‘কমিটমেন্ট এক্সচেঞ্জ’ পর্ব, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তরুণ নেটওয়ার্ক, একাডেমিয়া ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানটি জাতীয় জলবায়ু কর্মসূচিতে জেন্ডার সমতা ও তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়ে শেষ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here