ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো  চট্টগ্রামেও  জলবায়ু ধর্মঘট ও পদযাত্রা করেছে তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।ধর্মঘটে সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা (আইইপিএমপি) বাস্তবায়ন হলে ব্যয়বহুল ও দূষিত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়বে মন্তব্য করে এটি দ্রুত সংশোধনের দাবি জানানো হয়।

শুক্রবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের জামালখান মোড় থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বর্ণিল ব্যানার, পোস্টার এবং স্লোগানে মুখর ছিল সমাবেশস্থল।

তরুণ জলবায়ুকর্মীরা “ভুয়া সমাধান নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই” এই শ্লোগান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান জ্বালানি নীতিতে নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তারা সমালোচনা করে বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, এতে ব্যয়বহুল ও দূষণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়বে। তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি  আহবান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ইয়ুথনেট গ্লোবাল চট্টগ্রাম জেলার জেলা সমন্বয়ক পপি আক্তার, সহ-সমন্বয়কারী সুমিত সাহা, সদস্য মো. কয়েছ হক, জান্নাতুল মাওয়া শিফা প্রমুখ।

ইয়ুথনেট গ্লোবাল চট্টগ্রাম জেলার জেলা সমন্বয়ক পপি আক্তার বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু। এই জ্বালানির ব্যবহার এবং এর পেছনে থাকা অর্থায়ন বন্ধ না হলে জলবায়ু সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হবে।”  তিনি আরও বলেন, “জ্বালানি খাতে একটি ন্যায্য রূপান্তর দরকার, যেখানে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো হবে।”

পরে ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “জলবায়ু সংকটকে বিবেচনায় রেখে আমাদের শক্তি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আইইপিএমপিতে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত না করে দরকার একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো পরিকল্পনা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভবিষ্যৎ জীবাশ্ম জ্বালানির মুনাফার জন্য বিক্রি করা চলবে না। নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারই একমাত্র টেকসই পথ।”

জানা গেছে, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘ইয়ুথনেট গ্লোবাল’ ও ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ গ্রুপ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আয়োজকেরা জানান, একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে জলবায়ু ধর্মঘট পালিত হয়েছে। এতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও ইয়ুথনেট গ্লোবাল প্রতিবছর এই বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নানা আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here