গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ::

দিনাজপুরের হাকিমপুরে ঋণ দেয়ার কথা বলে সঞ্চয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে আইডিএফএন সংস্থা নামের একটি ভূয়া এনজিও। রোববার বিকেলে ভোক্তভোগীরা ঋণ নিতে অফিসে গেলে তালা বন্ধ দেখতে পান। প্রতিকার পেতে একই দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, চলতি সেপ্টম্বর মাসের ৪ তারিখ উপজেলার সাতকুড়ি বাজারে তিন কক্ষের একটি অফিস মাসিক ৬ হাজার টাকায় মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া নেয় মাজহারুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দু’জন ব্যাক্তি। সেখানে আইডিএনএফ সংস্থা নামের একটি এনজিও গড়ে তোলেন। মাত্র ৫ শতাংশ হারে দু,বছর মেয়াদী ঋণ দেয়ার প্রলোভন দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সমিতি করেন। এবং কমপক্ষে এক লাখ করে ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে প্রত্যোকের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা সঞ্জয় আদায় করেন। রোববার বিকেলে ঋণ বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ঋণ প্রত্যাশিরা এসে দেখের অফিসে তালা ঝুলছে। আশাপাশের লোকজন জানায় সকাল থেকে ওই অফিস তালাবন্ধ। অফিসের লোকের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তারা বুঝতে পারেন তাদের সাথে প্রতরাণ করা হয়েছে। প্রতারনার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রতিকার পেতে ৭৯ জনের ৪ সমিতির সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

উপজেলার আলিহাট গ্রামের আামিরুল ইসলাম জানান, তিনি ওই এনজিওর জবা সমিতির সভাপতি। তার সমিতিতে ২৬ জন সদস্য আছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা সঞ্চ নিয়েছে । এনজিও পালিয়েছেন শুনে থানা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অফিসের মালিক রিয়াজুল আলম জানান, আইডিএফএন সংস্থা নামের  এনজিওর দুই ব্যাক্তি চলতি মাসের ৩ তারিখে ভাড়া নিতে আসেন। এবং মাসিক ৬ হাজার টাকা মৌখিক ভাড়া চুক্তি হয়। লিখিত চুক্তি করতে চাইলে চলতি মাসের শেষের দিকে ঢাকা থেকে বড় স্যার আসবে তখন লিখিত চুক্তি করার কথা জানান। রোববার সকাল থেকে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। মনে করেছিলাম তারা ফিল্ডে গেছে। বিকেলে শুনি তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঢাকা নিয়ে পালিয়েছে।

হাকিমপুর থানা ওসি নাজমুল হক জানান, ঋণ দেওয়ার কথা বলে আইডিএফএন সংস্থা নামের একটি ভূয়া এনজিও সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৪ টি সমিতির সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সমিতির সভাপতির দেওয়া তথ্য মতে ৭৯ জনের তথ্য পাওয়া গেছে যারা প্রতরণার শিকার হয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রতারণার শিকার হওয়ার ব্যাক্তির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধরণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here