
মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল প্রতিনিধি ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।বুধবার দুপুরে উপজেলার বাদে অরুয়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার মুখেই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অভিযোগকারী ব্যক্তি দৃশ্যমান খালের জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। এতে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এলাকার কৃষকরা এতে বিপাকে পড়েছেন। দুপুর ২টার দিকে মোহনলাল জিউর মন্দির থেকে শত শত নারী-পুরুষের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তাঁরা দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহিদ মিয়া ও তার লোকজন বাধা দেন।
একপর্যায়ে রোকন উদ্দিন নামে এক যুবক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরে ২০-২৫ জন এসে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির নেতারা জানান, মন্দিরের জায়গা নিয়ে মামলা চলমান অবস্থায় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া বালু ফেলে জায়গা দখল করে।
এ ছাড়া খালের ওপর মাটি ফেলেছে। মন্দিরের জায়গা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করতে গেলে হামলা চালানো হয়। রোকন নামে এক যুবক প্রথমে কয়েকজনকে উসকে দিয়ে ঢিল ছুড়ে। পরে অন্যরা হামলা চালায়।
অভিযুক্ত সহিদ মিয়া বলেছেন, ‘মন্দিরের জায়গায় তিনি মাটি ফেলেননি। যেটি খাল দেখা যায় সেটি আসলে জমি। তাদের মানববন্ধনে আমরা হামলা করিনি। একটি চক্র এটার পেছনে কাজ করছে।’
অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষই নিজের জায়গা বলে দাবি করে। আদালতে মামলা চলমান বিধায় বিষয়টি মীমাংসা করা যায়নি। খাল দখল করতে সহিদ মিয়াকে নিষেধ করা হয়। দিনে না করলে রাতে তিনি খাল ভরাট করে ফেলেন।



