
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::
‘‘জীবনের সব ক্ষেত্রে শুদ্ধতা ও নৈতিকতা অনুশীলন করতে চাইলে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার বিকল্প নেই। যদি কেউ রাসুলের জীবনবৃত্তান্ত না পড়ে, তাহলে তার অন্তরে তার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা আসবে কীভাবে? ফলে পৃথিবীর অসংখ্য ভাষায় তার জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়েছে। অসংখ্য মানুষ তার জীবনীচর্চার মাধ্যমে নিজের জীবনের আলো ফিরিয়ে আনছে। আমরা যদি জীবন আলোকিত করতে চাই-সিরাতুন্নবী (সা.) চর্চার বিকল্প নেই।’’
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শানে সাহিত্যের কাগজ সমধারা’র আয়োজিত সিরাত অনুষ্ঠানে আলোচকগণ এসব কথা বলেন।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সমধারা ৪র্থবারের মতো এই সিরাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজন দুই পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে মহানবীর (সা.) শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে জীবনীপাঠ বিষয়ক আবৃত্তি প্রয়োজনা ‘দ্য লাইট-৪’ উপস্থাপন হয়েছে।
এর আগে প্রথম পর্বে নবী আগমনের পটভূমি, দ্বিতীয় পর্বে সত্যের উপলব্ধি, সত্যের প্রচার; নির্মম নির্যাতনেও বিশ্বাসে অটল; হিজরত : সোনালি সকালের সূচনা, তৃতীয় পর্বে মহানবী (সা.) মদীনায় শুরু করলেন ঘর গোছানোর কাজ; সীমিত শক্তি ও উপকরণ নিয়ে বদরের প্রান্তরে বড় বিজয়ের উপাখ্যান; ধনীর সম্পদে দরিদ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা; নিশ্চিত বিজয় যেভাবে বিপর্যয়ে পরিণত হলো; ওহুদের প্রান্তরে বিপর্যয় থেকে বিজয় নবীজীবনের এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। এবারের পর্বে ছিল- মদিনায় হিজরত করার পর শ্রেণিহীন সমাজ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন: ক্রীতদাসকে সামাজিক মর্যাদা প্রদান; বদরের পরাজয়; খন্দকে লড়াই; হুদাইবিয়া সন্ধি- এই ‘বিষয়গুলো ধরে ‘দ্য লাইট’-৪ তৈরি করা হয়েছে। প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছে কুরআনের বাণী, নবীজীকে নিবেদিত সমধারা পরিবারের রচিত কবিতা আবৃত্তি।
কবিতাগুলো লিখেছেন; হাসান হাফিজ, ফরিদ আহমদ দুলাল, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ওমর কায়সার, আরিফ মঈনুদ্দীন, বাদল মেহেদী, শামীম আহমদ, গাজী আবু হানিফ, আবু জাফর সিকদার, ইফতেখার হালিম, তূয়া নূর, ইয়াসিন আযীয।
প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেছেন- সৈয়দা আজদিকা কামাল, আসমা দেবযানী, মাসুম আজিজুল বাসার, মো. জাকির মোল্লা, নাজহাতুল তোয়া, সিফাত সালাম, বাসুদেব নাথ, ফারিন তামান্না, আবদুল মালেক, আবদুল কুদ্দুস গালিব জান্নাত আরা মমতাজ, মেহেরুন নাহার মেঘলা, সালেক নাছির উদ্দিন, আকাশ আহমেদ এবং ইমামুল হুদা।
গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সমধারা সম্পাদক সালেক নাছির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার বিষয় ছিল : ‘মহনবী (সা.): তিনিই আমার প্রাণের নবী’। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক চৌধুরী মনজুর লিয়াকত রুমি।
এছাড়া আলোচনা করেন-কবি-সম্পাদক ফরিদ আহমদ দুলাল, কথাসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ, লেখক এ এফ এম মাহবুবর রহমান, কবি-সম্পাদক মনসুর আজিজ, লেখক-গবেষক একেএম রেজাউল করিম, লেখক-শিক্ষক সৈয়দা আজদিকা কামাল প্রমুখ।
আয়োজনে নবীজিকে (সা.) নিবেদিত সমধারা’র ১০৮তম সংখ্যার পাঠ উন্মোচন হয়েছে। এবারের সংখ্যায় ৩০টি প্রবন্ধ ও ১০টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
সংখ্যার উল্লেখযোগ্য লেখকরা হচ্ছেন- মুহম্মদ নুরুল হুদা, চৌধুরী মনজুর লিয়াকত রুমি, ফরিদ আহমদ দুলাল, এএফএম মাহবুবর রহমান, ড. মো. আরিফুর রহমান, মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান, মনসুর আজিজ, দীপু মাহমুদ, একেএম রেজাউল করিম, ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আফরোজা হীরা, তাহমিনা শিল্পী, আতিকা হাসান, সামছুদ্দিন হীরা, উম্মুল খায়ের, নীলা হারুন, সৈয়দা আজদিকা কামাল, সালমা বেগ, জান্নাতুল আদন প্রমুখ।
সার্বিক বিষয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজক সমধারা সম্পাদক সালেক নাছির উদ্দিন বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর শানে সমধারা’র উদ্যোগে ৪র্থ আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। এই আয়োজনটি সমধারা পরিবার অনেক যত্মে লালন করছে।
আগামী বছর ৫ম আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। এরপর ৬ষ্ঠ বছর ২০২৭ সালে বড় পরিসরে আয়োজনের স্বপ্ন দেখছি। ৫ বছরে ৫টি বিশেষ সংখ্যা নবীজীকে নিবেদন করে প্রকাশিত হচ্ছে। আগামীতে ৫টি সংখ্যা থেকে বাছাই করে বৃহৎ কলেবরে ‘‘নবীজি’’ শিরোনামে একটি সংকলনের ইচ্ছে প্রকাশ করছি।


