ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ::

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (উপাধ্যক্ষ) অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও তোপের মুখে মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। জানা যায়, গত ৩ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

সোমবার দুপুরে কলেজে আসার পর তিনি শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন এবং দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশি সহায়তায় ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, সাকির হোসেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী। তাদের দাবি, তার ছোট ভাই রাকিব হোসেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শহীদ সাগর হত্যা মামলার একজন আসামি। এ কারণে তারা কোনোভাবেই একজন আওয়ামী পরিবারের সদস্যকে অধ্যক্ষ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন।

এর আগে, গত ৩ জুলাই অধ্যাপক সাকির উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি কলেজে না আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ তিনি কলেজে এলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেনের কলেজে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের চারতলায় শিক্ষক মিলনায়তনের কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভের পর কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

আন্দোলনরত ভূগোল বিষয়ের শিক্ষার্থী হারুনুজ্জাম্নান পরাগ সমকালকে জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে অধ্যক্ষ দুদিন যাবত গোপনে বিভিন্ন নথিপত্রে স্বাক্ষর করছেন। এর প্রতিবাদে তারা তাকে অবরুদ্ধ করেন। শিক্ষার্থীদের লাগাতার স্লোগানের মুখে সাকির হোসেন কলেজের চলমান সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন। এরপর তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে কটাক্ষ করেন। এ সময় গণমাধ্যমের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সাকির হোসেন।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরুল কায়েস বলেন, শহীদ সাগরের রক্ত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা আমরা মেনে নিতে পারি না। সাকির স্যারকে অধ্যক্ষ হিসেবে আমরা চাই না। দ্রুত সময়ের ভেতর নতুন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে।

অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য ঘোষণা করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা রোববার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, একটি বিষয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন কলেজে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে পুলিশ সহযোগিতা করে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খান সাদি জানান, শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে স্যার মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। সহকর্মী হিসেবে আমি তাকে অটোরিকশায় করে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাকির হোসেন সমকালকে বলেন, তিন দশকের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকতা হিসেবে আমার বড় স্বপ্ন ছিল আমার আনন্দ মোহন কলেজকে একটা আনন্দময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো। যেখানে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক হবে সুমধুর। ছাত্রদের কোনও সমস্যা সমাধানে শিক্ষক এগিয়ে আসবে শ্রেণিকক্ষে শতভাগ ছাত্রছাত্রী উপস্থিত থাকবে, শ্রেণি শিক্ষক আনন্দময় পরিবেশে পাঠদান করবে। কিন্তু রাজনৈতিক গ্যাঁড়াকলে পড়ে আমার স্বপ্ন ব্যর্থ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here