দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ::

‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে তাদের ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব। আমি কিন্তু কথাটা খুব পরিষ্কারভাবে বলতাছি। এটা মনে কইরেন না আমি ভয় দেখাচ্ছি। আমি পরিষ্কার করে বলতেছি—এটা পারলে রেকর্ড করে ফেসবুকে ছাইড়া দিতে পারেন, আমার কোনো অসুবিধা নেই।’ সোমবার রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাকসার গ্রামে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠকে এ হুমকি দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রায় ২ মি‌নিটের ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সুতরাং আমাকে যেন অপমানিত না হতে হয়। আমি যদি অপমানিত হই, সেই অপমানের শোধ আমি ওইভাবে নেব কিন্তু। ঠিক আছে না? আপনারা কি আমাকে অপমানিত হইতে দেবেন?’ এসময় উপস্থিত লোকজন ‘না’ বলে জবাব দেন।

পরে তিনি বলেন, ‘তাইলে সবাই কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারিতে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করবেন। তারেক রহমানকে সরকার গঠনে সহায়তা করবেন। গুনাইঘরবাসীকে সহায়তা করবেন।’

এ বিষয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, ‘বিষয়টি ছিল মূলত কথার কথা। উঠান বৈঠকটি হয় রাত প্রায় দুইটার দিকে। আমি সকাল ৯টা থেকে বের হয়ে সারাদিন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী সভা ও উঠান বৈঠক করেছি। খুবই টায়ার্ড ছিলাম। ক্লান্ত অবস্থায় কথার কথা বলতে গিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমন কথা বলেছি। এর বাইরে কিছু নয়। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বক্তব্যটি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একান্তই ব্যক্তিগত। এটি দলীয় বক্তব্য নয় এবং এর দায়ভারও দলের নয়। আমরা এ বক্তব্যের জন্য বিব্রত বোধ করছি।’

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি শুনেছি। কুমিল্লা-৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভিডিওটি ও লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

গত ৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপর থেকেই মাঠে সক্রিয়ভাবে তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।

এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলাকলি), বিএনপি জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার (আপেল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল করিম (হাত পাখা)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here