পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে এদিন শুরুতে এলোমেলো ছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রতিপক্ষের আক্রমণের চাপ সামলাতে গিয়ে বেশ কয়েকবার খেই হারিয়ে ফেলেন তারা। তবে গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগমের দৃঢ়তায় পথ হারাননি বাটলারের শিষ্যরা। সময়ের সঙ্গে ছন্দে ফেরা মেয়েরা প্রথমার্ধেই করেন দুই গোল। ভুটানকে ১২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ লিড নেয় ম্যাচের ২৯ মিনিটে।
মামনি চাকমার ফ্রিকিক ভারতের গোলকিপার মুন্নির গ্লাভস হয়ে ক্রসবারে লেগে নিচে পড়ে। শেষ মুহূর্তেও পা চালিয়ে তিনি প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলেন বিপদমুক্ত করার, কিন্তু গোলমুখে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস টোকায় খুঁজে নেন জাল। গোলের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ শিবির। সেই আনন্দ দ্বিগুণ হয় ৪০ মিনিটে। ডান দিক থেকে গোলমুখে সতীর্থের ক্রস দুই ডিফেন্ডারের মাঝে থাকা আলপি নিখুঁত টোকায় ভারতের জাল কাঁপান। প্রথমার্ধের দুটি গোল ধরে রাখার কৌশলে বিরতির পর খেলতে থাকে বাংলাদেশ। তাতে সফলও হয়।
শুরুতে এলোমেলা পারফরম্যান্সের পর যেভাবে মেয়েরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে তৃপ্ত বাংলাদেশ কোচ বাটলার, ‘মেয়েরা অসাধারণ মানসিকতা এবং দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমাদের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। কিছু ছোটখাটো চোট ছিল, কয়েকজনের ব্যথা ছিল, যেমনটা ধারণা করেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয়, আমরা প্রথম দিকের হালকা ঝড়, চাপ, যা ইচ্ছা তাই বলুন, আমরা সেটি কাটিয়ে উঠেছি।’ ম্যাচে যোগ্যতর দল হিসেবে বাংলাদেশ জিতেছে বলে মনে করেন এ ব্রিটিশ কোচ, ‘ওই সময়ও ভেবেছিলাম আমরা চালিয়ে যাব এবং সত্যিই খুব ভালোভাবে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। ম্যাচে ভারতের অবশ্যই গোলের সুযোগ তৈরির মুহূর্ত ছিল, আমি বলতে চাইছি, তাদের কিছু সত্যিই ভালো খেলোয়াড় আছে এবং আমি মনে করি, তারা আমাদের চেয়ে লম্বা, শারীরিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী। আমাদের মেয়েরা তুলনামূলকভাবে তাদের চেয়ে ছোটখাটো গড়নের এবং দুর্বল। তবে, আমরা মানসিক শক্তি দেখিয়েছি এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছি, আমি মনে করি, আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম।’
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন বাটলার। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে এবং দ্বিতীয়ার্ধে সুরভি আকন্দ প্রীতি, জয়নব বিবি রিতা ও তৃষ্ণা রানীকে তুলে নেন। বাংলাদেশ কোচ সুযোগ দেন প্রতিমা মুন্দা, শান্তি মার্দি, বন্যা খাতুন, মৌমিতা খাতুন ও মিরা খাতুনকে। চোট সমস্যার কারণে এই বদলগুলো করেছেন বলে জানান বাটলার, ‘আমার মনে হয় না স্ট্রাইকারদের তুলে নিয়েছি। চোট সমস্যা ছিল, সুরভির চোট ছিল। প্রীতি, তৃষ্ণাও একটু আঘাত পেয়েছিল, কিন্তু ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আমি তাদের তুলে নেইনি। ম্যাচের আগে ক্রানুচিংয়ের ঘাড়ে ব্যথা ছিল, তাই সে অস্বস্তিতে ছিল বলে তুলে নিয়েছিলাম। রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণাত্মক দিকটিও দেখতে হবে। যদি না পারে, আমি তাকে টানব না; গত দুই বছরে আমি এটির ওপর রক্ষণের দায়িত্বের প্রশ্নে; যাদের দিয়ে হবে না, তাদের বয়ে বেড়াবো না। তাই সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’