পাকিস্তানে বছরে ৪০ হাজার নারী ব্রেস্ট ক্যানসারে মারা যায়। এশিয়ায় ব্রেস্ট ক্যানসারে মারা যাওয়া নারীদের মধ্যে পাকিস্তানের এ সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। সোমবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ব্রেস্ট ক্যানসার বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এটা খুবই উদ্বেগজনক তথ্য যে পাকিস্তানে প্রতিবছর বেস্ট ক্যানসারে ৪০ হাজার নারী মারা যায়। এছাড়া প্রতি নয়জনে একজন নারী এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মশালাটি আয়োজন করে ‘পিংক রিবন ক্যাম্পেইন’ নামে একটি সংগঠন। একে সহযোগিতা করে সরকারের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) এবং পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি কমিশন (পিএইসি)। পাকিস্তানের ক্যানসার হাসপাতাল ব্রেস্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে ২০১২ সালকে ‘পিংক রিবন যুব বছর’ হিসেবে পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সোমবারের এ কর্মশালায় পিংক রিবনের জাতীয় সমন্বয়ক ওমর আফতাব বলেন, এ তথ্যগুলো আমাদের জন্য সত্যিই উদ্বেগজনক।

কিন্তু হতাশ হলে চলবে না। এর বিরুদ্ধে এখন থেকেই আমাদের সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। তবে আশার কথা, প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ নির্ণয় করা গেলে তা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কাজেই প্রতিকারের চেয়ে এ রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই তরুণী। তারা বেশির ভাগই স্বাস্থ্য সচেতন হয় না। এক্ষেত্রে তাদেরকে সচেতন করতে তাদের মায়েদেরই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণত মায়েরাই হয় মেয়েদের প্রথম বন্ধু। কাজেই মায়েদের উচিত, তাদের মেয়েদের চিকিত্সকদের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত ব্রেস্ট পরীক্ষা করা। ওমর আফতাব বলেন, এ বছর ব্রেস্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে আমরা ইসলামাবাদের ১৫টি কলেজের ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রচার চালাব। এছাড়া সারা দেশের পাঁচশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার চালানো হবে। এইচইসি’র চেয়ারম্যান ড. জাভেদ লাঘারি বলেন, পিংক রিবনের এ কর্মসূচিতে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ডাকঘরের অতিরিক্ত সচিব ফজল সাত্তার বলেন, ব্রেস্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ স্মারক ডাকটিকেট ছাড়া হয়েছে।

ফাতিমা জিন্নাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সামিনা আমিন কাদির বলেন, এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের নিজ পরিবার থেকে এ সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তবে সব বক্তাই একটি কথা স্বীকার করেন যে সর্বোপরি দেশে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। দেশে যদি শিক্ষার হার বাড়ানো যায় এবং সব মানুষ সচেতন হয় তাহলে এ রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া আরও সহজ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here