
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::
নজিরবিহীন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সদ্য বিদায়ী গভর্নরের বিদায় এবং নতুন গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি বারবার বলেন, ‘কিছুই বলার নেই’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নতুন গভর্নর অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে যান এবং সাড়ে ৪টার দিকে বৈঠক শেষে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সাংবাদিকরা গভর্নরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে দুপুর আড়াইটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক করেন নতুন গভর্নর। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কী ধরনের কাজ করে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একদল কর্মকর্তার বিক্ষোভের মুখে বুধবার দায়িত্ব ছাড়েন সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এদিন দুপুর ২টার দিকে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হলেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা সমালোচনা চলছে।
আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের উপদেষ্টা, নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ও ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) জোর করে অফিস থেকে বের করে দেন।
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তৎকালীন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৪ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার নয় দিনের মাথায় বর্তমান গভর্নরের জায়গায় নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।



