বাংলা প্রেস,
নিউ ইয়র্ক থেকে :: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে যাত্রা শুরু হল ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। স্থানীয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে নিরাপদ সড়ক চাই –এর শাখার উদ্বোধন করা হয়। মামুন টিউটোরিয়ালে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অনেক বেশি। এর প্রধান কারন নিয়ম না মানা। চালক যাত্রী মালিক পথচারি কেউই যথাযথ নিয়ম মানছেন না। যাত্রীরা গাড়িতে উঠেই হয়তো বলছে ‘ড্রাইভার ভাই একটু জোরে গাড়ি চালান’। বলেই তিনি সিটে বসে ঘুমিয়ে পড়ছেন। এ কথা বলে তিনি যে অপরাধ করলেন এবং চালককে অপরাধ করতে ইন্ধন যোগালেন তা তিনি বুঝলেন না আর এই ঘুম তাঁর শেষ ঘুম হতে পারে তা তিনি কল্পনাতেও আনেন না। পরিসংখ্যানে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় যারা নিহত বা আহত হন তাঁদের বেশিরভাগ যাত্রীই ঘুমিয়ে পড়া। কারন দুর্ঘটনার সময় তাঁরা কিছুই টের পান না, বুঝতে পারেন না। নিরাপদ সড়ক চাই গত ২২ বছর ধরে নিরলসভাবে সকলকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’ এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কার্যক্রম দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে এখন বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে চলছে। নিউ ইয়র্ক শাখার আহবায়ক শাহ মোঃ আহাদ আলী লিটনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ইলিয়াস কাঞ্চন সংগঠনের সদস্যসহ উপস্থিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
ফারুক আহমেদ,হাফিজ আব্দুল কাদরি, মারুফ আহমেদ, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম,মাহফুজুর রহমান,সাদিকুর রহমান,শাহীন মিয়া,রাহাত আহমেদ,ওয়াহিদুর রহমান,মোঃ আবু বকর,আব্দাল মিয়া,সৈয়দ নাজমুল হাসান,রুকন আহমেদ,আব্দুল হালিম আজাদ,লুৎফর রহমান ও আম্বিয়া বেগম অন্তরা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্কে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর শাখা গঠনের মাত্র দুইদিন আগে গত শনিবার সন্ধ্যা ৮টার টেক্সাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি দম্পতি। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নরমাঙ্গি শহরের ৩৯ নম্বর মহাসড়কে দু’টি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিউ ইয়র্কের এলমহার্ষ্টের বাসিন্দা মাহবুবুল সৌরভ ও তার স্ত্রী সাফিনা সৌরভসহ ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাহবুবুল সৌরভ দম্পতির ছেলে শাদাব সৌরভসহ দুইজন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পরই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন শাখা উদবোধন হওয়ায় এ বিষয়টিকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়। ২৩ বছর আগে চট্টগ্রামের অদূরে চন্দনাইশে বান্দরবানে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে যাবার পথে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। রেখে যান অবুঝ দুটি শিশু সন্তান জয় ও ইমাকে। ইলিয়াস কাঞ্চন সে সময় ছবির স্যুটিংয়ে বান্দরবান অবস্থান করছিলেন। স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে দু’টি অবুঝ সন্তানকে বুকে নিয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ইলিয়াস কাঞ্চন নেমে আসেন পথে। ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’- এই শ্লোগান নিয়ে গড়ে তুলেন একটি সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’। আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস এবং মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী, যাঁর অকাল মৃত্যুতে সড়ককে নিরাপদ করার এই সামাজিক আন্দোলনের জন্ম।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কেও এ দিবসটি পালনে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছেন নব গঠিত নিরাপদ সড়ক চাই-এর কর্মকর্তারা।