ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির জোর কিছুটা কমলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মূল সড়ক পানিতে ডুবেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরে ফেরা মানুষ। অনেক এলাকায় দোকানপাটে ঢুকেছে পানি। 

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক ‘ট্রাফিক অ্যালার্ট’ গ্রুপে বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন বাসিন্দারা। গ্রুপটির তথ্যমতে, রাজধানীর বনানী, এয়ারপোর্ট, মালিবাগ, মৌচাক, যমুনা ফিউচার পার্ক, ফকিরাপুল, তিনশো ফিট, মিরপুর, কালশী, বসুন্ধরা, নিউ মার্কেট, নিকুঞ্জ, গ্রীনরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় জলযট দেখা গেছে।

এদিকে লাগাতার বৃষ্টির কারণে আজ রাজধানীতে যানবাহনের চাপ ছিল তুলনামূলক কম। বাস, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক না থাকায় ঘরে ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পথচারীদের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে রিকশাভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ চাওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনেক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপকূলে খাদ্য, চিকিৎসাসহ সব ব্যবস্থা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি বর্তমানে সাতক্ষীরা ও আশেপাশের এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার রাতে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা। এর প্রভাবে  উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরগুলোতে বৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাগরদ্বীপ ও খেপুপাড়ার (পটুয়াখালীর কলাপাড়া) মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে। এটি বর্তমানে সাতক্ষীরা ও আশেপাশের এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

অমাবস্যা ও গভীর নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১-৩ ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস বলছে, আরও দুদিন থাকতে পারে বৃষ্টিপাত। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে রয়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। তবে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারা দেশে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here