ইমা এলিস/বাংলা প্রেস,  নিউ ইয়র্ক ::

টেক্সাসে ৮ দিন পর নিখোঁজ কিশোরী ক্যামিলা মেন্ডোজা ওলমোসের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ কিশোরী ক্যামিলার বলেই নিশ্চিত করা হয়েছে। এবিসি নিউজ ও নিউজনেশনসহ একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বেক্সার কাউন্টির ১৯ বছর বয়সী ক্যামিলা গত বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ভোরে নিজের পাড়ায় নিয়মিত হাঁটার জন্য বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন।

বেক্সার কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, মেন্ডোজা ওলমোসের মরদেহটি তার বাড়ি থেকে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মাইল দূরে পাওয়া যায় এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি আগ্নেয়াস্ত্র তার এক আত্মীয়ের মালিকানাধীন ছিল, যেটি আগে নিখোঁজ বলেও রিপোর্ট করা হয়েছিল।

ক্রিসমাস ইভে নিখোঁজ হওয়া মেন্ডোজা অলমোসকে সর্বশেষ দেখা যায় ওই দিন সকাল প্রায় ৭টার দিকে বাড়ি ছাড়ার পর রাস্তার পাশে হাঁটতে একটি ড্যাশক্যাম ভিডিওতে তা ধরা পড়ে। তার মা কর্তৃপক্ষকে জানান, মেয়েটি প্রায়ই সকালে হাঁটতে বের হতো, কিন্তু সেদিন আর ফিরে আসেনি। ওই সময় তার মোবাইল ফোনটি বাড়িতেই চার্জে লাগানো ছিল।

এক প্রতিবেশীর রিং ক্যামেরার ভিডিওতে মেন্ডোজা ওলমোসকে বাড়ি ছাড়তে দেখা যায়। এরপর তাকে নিজের গাড়ির ভেতরে কিছু খুঁজতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির ১৯ বছর বয়সী ক্যামিলা মেন্ডোজা ওলমোস বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ভোরে নিজের পাড়ায় নিয়মিত হাঁটার জন্য বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। সে সময় তিনি নীল নকশাযুক্ত কালো নর্থ ফেস সোয়েটার, হালকা নীল রঙের পাজামা শর্টস এবং সাদা জুতা পরেছিলেন।

ওইদিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে মেন্ডোজা ওলমোসের মতো দেখতে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যিনি নিজের গাড়ির ভেতরে কিছু খুঁজছিলেন বলে মনে হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে স্থলভিত্তিক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর কাছে শুধু গাড়ির চাবি এবং সম্ভবত একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। তিনি পায়ে হেঁটেই নিখোঁজ হন; তাঁর গাড়িটি বাড়িতেই রেখে যাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনটিও বাড়িতে চার্জে লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

নিউজ নেশন-এর আইন ও বিচারবিষয়ক প্রতিবেদক জেনিফার কফিনডাফার বলেন, পাজামা পরা অবস্থায় বের হওয়া এবং মোবাইল ফোন সঙ্গে না নেওয়া এই দুটি বিষয় ইঙ্গিত দেয় যে, কিশোরীর বাড়ি ছাড়ার উদ্দেশ্য খুব অল্প সময়ের হাঁটার বাইরে ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ছুটির মৌসুমে, বিশেষ করে এমন সময়ে কারও নিখোঁজ হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। কর্তৃপক্ষ এখনো মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে তারা জানিয়েছে যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মেন্ডোজা ওলমোস বিপদের মধ্যে থাকতে পারেন।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন যে, মার্কিন নাগরিক মেন্ডোজা ওলমোসকে আইসিই (আইসিই) আটক করেনি।

অনুসন্ধান কার্যক্রমে একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, অপহরণ, মানবপাচার বা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাসহ কোনো দিকই এখনো বাতিল করা হয়নি।

সম্প্রতি মেন্ডোজা ওলমোসের একটি সম্পর্ক ভেঙে গেলেও কর্তৃপক্ষ মনে করছে না যে, এর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে। কারণ বিচ্ছেদটি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তে সহযোগিতা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here