ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বন জলবায়ু সম্মেলন (এসবি৬২) শেষে দক্ষিণ এশিয়ার সম্মুখসারির বিপদাপন্ন জনগণের জন্য কোনো অর্থবহ অগ্রগতি না হওয়ায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছে তৃনমমূল যুবদের শীর্ষ সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল। জাতিসংঘের এই মধ্যবর্তী আলোচনায় অভিযোজন, ক্ষয় ও ক্ষতি বা লস এন্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোনো অঙ্গীকার আসেনি, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের আঘাত বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

বন্যা, তাপপ্রবাহ ও খাদ্য সংকট যখন দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতা, তখন বন আলোচনার এমন ফলাফল বিশ্ব নেতৃত্বের ওপর নতুন প্রশ্ন তুলছে। ইয়ুথনেট গ্লোবাল বলছে, কপ৩০ হতে হবে একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত—যেখানে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় জলবায়ু বিপদাপন্ন মানুষেরা।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, “বন সম্মেলন আমাদের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মানুষ যখন পানিতে ডুবে যাচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, তখন ধনী দেশগুলো অর্থায়নের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এটা নৈতিক ব্যর্থতা। জলবায়ু প্রক্রিয়াটি জনগণের জন্য হওয়া উচিত, মুনাফাখোর জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির জন্য নয়।”

২৬ জুন জার্মানির বন শহরে শেষ হওয়া দুই সপ্তাহব্যাপি এ আলোচনা ছিল নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেম শহরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের (কপ৩০) প্রস্তুতিমূলক পর্ব। ব্রাজিল এবার কপ৩০ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে। তারা ‘গ্লোবাল এনডিসি’ এবং ‘অ্যাকশন অ্যাজেন্ডা’ নামে কিছু প্রস্তাব দিলেও তার কার্যকর রূপরেখা এখনো অনুপস্থিত। এখন মাত্র পাঁচ মাস সময় হাতে, তাই কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য চাপ বাড়ছে ব্রাজিলের ওপর।

সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানপত্র (NDC) হালনাগাদের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছিল হতাশাজনক। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫টি দেশ তাদের NDC হালনাগাদ করেছে, যার মধ্যে জি২০-ভুক্ত মাত্র ৫টি দেশ রয়েছে। চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় নিঃসরণকারী দেশগুলো এখনো নতুন পরিকল্পনা জমা দেয়নি।

তবে সীমিত কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। ন্যায্য রূপান্তর (জাস্ট ট্রানজিশন ) কর্মসূচি ও বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্য নিয়ে কিছু কারিগরি আলোচনা এগিয়েছে। কপ৩০-এ অভিযোজন লক্ষ্য নিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্লোবাল স্টকটেক নিয়ে আলোচনা এখনো স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

বন সম্মেলনের পর এক বিবৃতিতে সোহানুর রহমান বলেন, “বিলম্বিত সুবিচার মানেই অস্বীকৃত সুবিচার বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তহীনতা আর গ্রহণযোগ্য নয়।”

অন্যদিকে, কপ৩০-এর আয়োজক শহর বেলেমে হোটেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ গোলার্ধের অনেক দেশ। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে ব্রাজিল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইয়ুথনেট গ্লোবাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here