
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::
আশার দীপ্তি নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার গল্প লিখছে দেশের তরুণরা। দুই দিনব্যাপী ‘ক্লাইমেট হোপ বাংলাদেশ ২০২৫’ সম্মেলনে মিলিত হয়েছিল দেশের নানা প্রান্তের এক হাজার তরুণ-তরুণী। রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন যেন হয়ে উঠেছিল তরুণদের প্রাণের মেলা।
ইয়ুথনেট গ্লোবাল, বুয়েট এনভায়রনমেন্ট ওয়াচ ও গ্লোবাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকারসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব তৈরি। সম্মেলনে জাতীয় ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, ক্লাইমেট হ্যাকাথনসহ নানা সৃজনশীল কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তরুণরা শুধু হতাশার গল্প নয়। তারা সম্ভাবনার আলো নিয়ে এগিয়ে আসছে। তাদের হাত ধরেই রচিত হবে টেকসই ও সহনশীল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডির জাতিসংঘ উইং চিফ একেএম সোহেল বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আজকের সক্রিয় তরুণরাই আগামীদিনে নিরাপদ পৃথিবী গড়বে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে প্রতিনিধিদলের জ্বালানি ও জলবায়ু কার্যক্রমবিষয়ক ফার্স্ট কাউন্সেলর এডউইন কোয়েকুক, সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন নায়োকা মার্তিনেজ ব্যাকস্ট্রোম, বুয়েট এনভায়রনমেন্ট ওয়াচের মডারেটর অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান এবং ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান।

দুই দিনব্যাপী প্রাণবন্ত আয়োজন শেষে সারাদেশ থেকে আসা ৬০০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১০৩ জন বিজয়ীকে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে অনেকের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস আর প্রত্যয়—তারা জানে, তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের জলবায়ু আন্দোলন।
তরুণ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা শুধু সমস্যা তুলে ধরতেই আসেননি, বরং সমাধানের পথে একসঙ্গে হাঁটার স্বপ্ন নিয়েই এসেছেন। তাদের কণ্ঠে ছিল টেকসই উন্নয়ন আর সমাধানের জোরালো অঙ্গীকার-সমস্যা নয়, সমাধানে পথ দেখাব আমরা।


