জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) থেকে ::
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রস্তুতিকালে মেয়ের বাবা সন্তোষ দাসকে ৮ হাজার টাকা জরিমানাসহ বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরদিকে সরকারি খাস জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অপরাধে শাহীনুুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করেছেন।
গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের সন্তোষ দাসের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে সুবর্ণা দাসের (১৭) বিবাহের প্রস্তুতি চলছিলো। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ গত বুধবার রাতে মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ের প্রস্তুতির সত্যতা পেয়ে মেয়ের বাবাকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবে না মর্মে অঙ্গীকারনামা নিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়।
অপরদিকে উপজেলার বায়সা গ্রামের মোহাম্মদ আলী গাজীর ছেলে শাহিনুর রহমান সরকারি রাস্তার পাশে খাস জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করছিলেন। দোকান ঘর নির্মাণের প্রাক্কালে শাহিনুর রহমানকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুসারে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুসারে মেয়ের বাবাকে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে আদায় এবং প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবে না মর্মে অঙ্গীকারনামা নিয়ে বাল্যবিয়ে করা হয়েছে। সমাজ থেকে যেকোন ভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে।
এছাড়াও সরকারি রাস্তার পাশে খাস জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের প্রাক্কালে শাহীনুর রহমানকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে আদায় এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।



