
ব্রাজিলের বেলেম শহরে চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে একটি সাইড ইভেন্টে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বললেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম রক্ষায় স্থানীয় নেতৃত্বাধীন প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তারা জানান, বিজ্ঞান, স্থানীয় জ্ঞান ও নীতি একত্রিত করতে পারলে ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক অভিযোজনকে বড় পরিসরে সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
আলোচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “সেক্টর জুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক অভিযোজন বাড়ানোই একমাত্র উপায়। স্থানীয় সম্প্রদায়, সরকার ও অংশীদারদের সহযোগিতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি অঞ্চল রক্ষা সম্ভব নয়।”
কেয়ার বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল সিথ্রিইআর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। আলোচনায় সুন্দরবন ও হাকালুকি হাওরের ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং প্রকৃতি-নির্ভর সম্প্রদায়ের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এটি যুক্তরাজ্য সরকারের বাংলাদেশ জলবায়ু ও পরিবেশ প্রোগ্রামের অধীনে বাস্তবায়িত নবপল্লব প্রকল্পের অংশ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দফতর (এফসিডিও)–এর প্রতিনিধি ডেবি পামার এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। তারা বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জীববৈচিত্র্য লক্ষ্যসমূহের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্যানেল আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডির জাতিসংঘ উইং চিফ অতিরিক্ত সচিব একেএম সোহেল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তুলতে হলে অর্থায়ন ন্যায়সঙ্গত ও পূর্ব-অনুমানযোগ্য হতে হবে।” আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা ডাব্লিউ ডাব্লিউ এফের প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান ক্লোজ বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন একসাথে চলতে হবে।” সিএনআরএসের নির্বাহী পরিচালক ড. এম. মোখলেসুর রহমান বলেন, “বিজ্ঞান ও স্থানীয় জ্ঞান একত্রিত হলে আসল কার্যকর সমাধান আসে।”
আলোচনার সঞ্চালক নবপল্লব প্রকল্পের ডেপুটি চিফ অফ পার্টি এবং কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর, মানবিক ও জলবায়ু কর্মসূচি, মৃত্যুঞ্জয় দাস বলেন, “সঠিক সরঞ্জাম (টুলস) থাকলে স্থানীয় মানুষেরা নিজেই অভিযোজন নেতৃত্ব দিতে পারে।”
মুক্ত আলোচনা পর্বে ইয়ুথনেট গ্লোবাল এর নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “প্রকৃতি সংরক্ষণে অর্থায়ন শুধু কার্বন হ্রাসের জন্য নয়, সুবিচারের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা প্রয়োজন। হাওর ও জলাভূমি বাংলাদেশের জলবায়ু সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি তাদের রক্ষার জন্য অর্থায়ন না থাকে, আমরা গুরুত্বপূর্ণ ইকোলজিকাল বাফার হারাবো।”
সমাপনী বক্তব্যে কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, “প্রকৃতি সংরক্ষণ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো একইসাথে করতে হবে। স্থানীয় উদ্যোগই বৈশ্বিক জলবায়ু সমাধানে পথ দেখাবে।”



