ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

দেশের জলবায়ুর ন্যায্য রূপান্তরে শ্রমিক ও তরুণদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা থাকা উচিত। জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এর আগে যুব ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশে টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত জলবায়ু রূপান্তর নিশ্চিত করতে চাকরির নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, তরুণ ও শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

এই আহ্বান এসেছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একাডেমি অব ওয়ার্ক ২.০-এর জাতীয় সংলাপ থেকে। বুধবার সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) ও ইয়ুথনেট গ্লোবাল।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা এনডিসি ৩.০-এ জাস্ট ট্রানজিশন নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি এশিয়ার প্রথম দেশ, যেটি পুরো একটি অধ্যায় জাস্ট ট্রানজিশনের জন্য বরাদ্দ করেছে। তবে নীতিগুলো পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে অর্থায়ন ও কার্যকর সমন্বয় এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সংলাপে বক্তারা বলেছেন, জাতীয় জাস্ট ট্রানজিশন নীতি তৈরি করা অপরিহার্য। এতে বাংলাদেশের কম কার্বন অর্থনীতি হবে ন্যায়সঙ্গত, টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। চাকরির নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং যুব ও শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জাস্ট ট্রানজিশনের জন্য অত্যাবশ্যক।

মূল তথ্যপত্র উপস্থাপন করতে গিয়ে ইয়ুথনেট গ্লোবাল-এর নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “তরুণ ও শ্রমিকরা কেবল সুবিধাভোগী নয়। তারা পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য শ্রমিক ও যুবদের ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ার প্রাণকেন্দ্রে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বেলেম অ্যাকশন মেকানিজমকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে মানুষের চাহিদা যেন অগ্রাধিকার পায় এবং কাজ কাগজের বদলে মাঠে পৌঁছায়।”

সংলাপে শ্রমিকদের প্যানেলে ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, বাংলাদেশ অ্যাপারেলস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদ তাহমিনা রহমান এবং জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব সম্পাদক এমডি নাসির উদ্দিন। প্যানেল পরিচালনা করেন এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এডভাইজার আরিফা আস আলম। তিনি বলেন,“টেকসই রূপান্তর সামাজিক ন্যায়ের ওপর দাঁড়াতে হবে। শ্রমিক ইউনিয়ন ও যুব নেতাদের একসাথে কাজ করতে হবে, খাতভিত্তিক প্রভাব বুঝতে হবে, দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।”

ট্রেড ইউনিয়ন নেত্রী তাহমিনা রহমান বলেন, “চাকরি রক্ষা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করলে জাস্ট ট্রানজিশন সফল হবে না। যুবদের সাথে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করলে শ্রমিকদের কণ্ঠ নীতিনির্ধারণে পৌঁছাবে এবং পরিবেশগত নিয়ম মানা সহজ হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লাউডেস ফাউন্ডেশনের লেবার রাইটস প্রোগ্রামের প্রধান নওরিন চৌধুরী এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাইজা ফারাহ তুবা।

যুব ও জলবায়ু সুবিচার প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ মহাসচিবের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক যুব উপদেষ্টা দলের সদস্য ফারজানা ফারুক ঝুমু, ফুটস্টেপসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শাহ রাফায়াত চৌধুরী, গ্রীনম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান রাব্বি এবং ইক্যাড ইয়ুথ ফেলো রেহানুজ জামান।

যুব বক্তারা বলেন, তরুণ জলবায়ু সুবিচার কর্মী ও শ্রমিক আন্দোলনের অংশীদারিত্বে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথ তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া যুব নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে অর্থায়ন বাড়ানোও জরুরি।

সংলাপে সোহানুর রহমান যুব নেতৃত্বের ওয়াই জাস্ট উদ্যোগের পরিচয় করান। প্রকল্পটির লক্ষ্য বাংলাদেশের টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যত বিনির্মাণ। এটি তরুণ, শ্রমিক ও নীতিনির্ধারকদের সংযোগ করে ন্যায়সঙ্গত জলবায়ু কর্ম, জেন্ডার সাম্য এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করবে।

জাতীয় সংলাপ শেষে যুব জলবায়ু নেটওয়ার্ক ও শ্রমিক নেতারা কপ৩০-এর জন্য মূল অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here