
জনি কান্ত শর্মা, সিলেট থেকে ::
দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে সিলেটের এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজ। একসময় যেগুলো মৃত্যুর পর নিথর দেহের শেষ আশ্রয় ছিল, আজ সেগুলোই নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে নীরব যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ফলস্বরূপ, হাসপাতালের মর্গে রাখা মরদেহগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না—ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, তৈরি হচ্ছে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
মর্গের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সংরক্ষণের জন্য মর্গে দুটি ফ্রিজ ছিল। একটিতে ১২টি ও অন্যটিতে ৪টি—মোট ১৬টি মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল সেখানে। বর্তমানে একটি ফ্রিজ সম্পূর্ণ বিকল, আরেকটিতে কেবল দুটি মরদেহ রাখা সম্ভব হচ্ছে।
অন্যদিকে ময়নাতদন্ত কক্ষের অবস্থাও শোচনীয়। সেখানে থাকা তিনটি মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজও কয়েক মাস ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন মর্গে আসা মৃতদেহগুলো দ্রুত পচে যাচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ হাসপাতালের আশপাশেও।
মর্গের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক দিন ধরে ফ্রিজগুলোর গ্যাস লিক ও যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। মাঝে মাঝে টেকনিশিয়ান এনে চালু করা হলেও কিছুদিন পরই আবার বন্ধ হয়ে যায়। এখন অনেক সময় মরদেহ ট্রলিতেই রাখতে হয়।”
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যে রোগীরা মারা যান, তাদের জন্যই এই ফ্রিজ ব্যবহার করা হয়। বাইরের রোগীদের মরদেহ সংরক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশন ও ডায়াবেটিস হাসপাতালের ফ্রিজ ব্যবহার করা যায়। আমরা ছয় মাস আগে নতুন ফ্রিজের চাহিদা দিয়েছি, তবে সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কিনতে সময় লাগে আরও বছর খানেক লাগবে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মরদেহ পচে যাওয়ার কারণে মর্গের আশপাশে অসহনীয় দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও স্বজনদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মৃতদেহ সংরক্ষণের এই অব্যবস্থাপনা শুধু যান্ত্রিক ব্যর্থতা নয় এ যেন মানবিক অবহেলারও প্রতিচ্ছবি। যাদের জন্য জীবনভর ছুটেছিল চিকিৎসা ব্যবস্থা, মৃত্যুর পর তাদের শেষ ঠাঁইও আজ অনিরাপদ।



