
মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল প্রতিনিধি ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার দুটো ইউনিয়ন আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,আমার কোনো দল নেই,হাইকমান্ড নেই। ইউনিয়ন,ওয়ার্ড বা উপজেলা পর্যায়ে আমার কোনো কমিটি নেই। তাই আমার ভোট আপনারাই পাহারা দেবেন। ভোট গণনা শেষ হলে ফলাফল দেখে সই করে আমাকে জানিয়ে আপনারা ভোট কেন্দ্র ছাড়বেন।
তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামে এক জনসমাবেশে এ কথা বলেন। এসময় তিনি মিডিয়া কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন,আপনারা গত ১৫ বছর আমার পাশে ছিলেন। আমরা মিলে-মিশে কাজ করেছি। আপনারা ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে টীম পাঠিয়ে আমার ভোট আপনারা পাহারা দেবেন।
তিনি প্রতিপক্ষকে সাবধান করে দিয়ে বলেন,এ আসনে কেউ যেনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা না করেন। তারা যেনো মনে রাখে এখানে বিদেশী পর্যবেক্ষক রয়েছে। আজই আমার বাড়িতে ইউরোপিয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সাথে বৈঠক হয়েছে। তিনি আরো বলেন,কোনো দল যেনো আগাম মনে না করে তারাই সরকার গঠন করবে। অন্যদলও তো সরকার গঠন করতে পারে। তখন আপনাদের কি অবস্থা হবে? সরকার গঠন করবে ঐ দল,আগাম জানি কেমনে। এটা কি হাসিনার পাতানো নির্বাচন যে আগে থেকেই জানি সরকারে কোন দল যাবে।
১২ তারিখের ভোট পুরো রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাই তিনি প্রতিপক্ষকে কথা কম বলতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন,কথাবার্তা সাবধানে বলবেন। একদিকে কথা বলবেন আরেকদিকে :ধরা খাইবেন। তিনি আরো বলেন,আমি চুরি করবোনা,আমার চ্যালা চামুন্ডারা চুরি করবেনা, এমনকি আমার যেহেতু হাই কমান্ড নেই তাই হাইকমান্ডকেও কিছু দিতে হবেনা। আমার জন্য যা বরাদ্দ আসবে তার পুরোটাই জনগণ পাবে। এখানে নয়-ছয় চলবেনা। তিনি এ প্রসঙ্গে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনেকের প্রশ্নের জবাবে বলেন,সরকারি দলের এমপি যে বরাদ্দ পাবে,বিরোধী দলের এমপিও সেই বরাদ্দ পাবে। শুধু সংরক্ষিত এমপির বরাদ্দ কম। যা দিয়ে উন্নয়ন করা যায় না। তাই আমি আর সংরক্ষিত এমপি হতে চাইনা।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,এলাকার জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে ইনশাল্লাহ নির্বাচনী এলাকার ১৯ টি ইউনিয়কে সারাদেশে মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করবো। এই এলাকা নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। কারণ ১৯৭৩ সালে আমার বাবা নির্বাচিত হলেও তাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাই বাবার পথধরে ৪০ বছর পর আবার আমি এসেছি। আমি এখানকার ঘরের মেয়ে-কাছের বোন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী সৈয়দ হোসেন। বক্তব্য রাখেন মো, সোহেল মিয়া, মো, সামসুল আলম, আয়ুব খান, মো, হোসেন মিয়া।



