খাদেমুল ইসলাম ফরহাদ, ইবি প্রতিনিধি :: 
ছাত্রদল কর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, নিরাপত্তা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জনি ও গণমাধ্যম কর্মীরা। গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে ক্যাম্পাসের ডায়না চত্ত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রিফাত ইসলাম, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইফতিহার উদ্দীন, আব্দুল কাইয়ুম, মুহাম্মদ আমির, কাইসার শামস ও শাকির আহমেদ রাজ, ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সাব্বির, রেদোয়ানুল ইসলাম রোহান, তুষার ও আলি হাসান এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রিন্স ও জনি। এরা সবাই শাখা ছাত্রদলের সক্রীয় কর্মী।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ কর্তৃক অপহৃত ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে গতকাল রাত ৮টার দিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় পূর্ব থেকেই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় বিভাগটির একাংশ শিক্ষার্থী যারা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলেও জানা যায়। শিক্ষক জুয়েলকে নিয়ে আসার সাথে সাথেই গাড়ি আটকে চারপাশ ঘিরে ধরে তারা। শিক্ষক জুয়েলের নিরাপত্তার জন্য উপাচার্য কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তাকে বিভাগে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানায় তারা। এসময় ঘটনাস্থলে প্রক্টর উপস্থিত হলে তার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ায় তারা। একপর্যায়ে প্রক্টরকে ধাক্কা দেয় কিছু উশৃংখল শিক্ষার্থী। এসময় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জনি এগিয়ে আসলে তাকে ঘুসি দেয় ইফতিয়ার উদ্দীন।

এদিকে সাংবাদিকরা এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করলে রিফাত ইসলাম, ইফতিয়ার উদ্দীন,  মোহাম্মদ সাব্বির, প্রিন্স ও জনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদেরকেও লাঞ্চিত করেন। এসময় মব সৃষ্টিকারীদের মধ্যে আরো ছিলেন মুহাম্মদ আমির, কাইসার শামস, শাকির আহমেদ রাজ ও আব্দুল কাইয়ুম, রেদোয়ানুল ইসলাম রোহান, তুষার ও আলি হাসান। এরা সকলেই শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী।

এদিকে, গতকাল রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা। মানববন্ধনে তারা প্রক্টর, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমি বিষয়টি প্রক্টরকে দেখতে বলেছি।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা তাকে (অপহৃত শিক্ষক) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিরাপদ পরিবেশে রেখেছি। এছাড়া শিক্ষক, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সাথে ঐ শিক্ষার্থীদের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডি বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

এর আগে গতকাল বুধবার ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বোর্ডে যোগদানের জন্য বেলা ৯ টার দিকে বিভাগের শরিফুল ইসলাম জুয়েল ঝিনাইদহের বাসা থেকে বের হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ মোটরসাইকেলযোগে তাকে বাসার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের বিষয়ে সাহেদ আহম্মেদকে সাংবাদিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। এ ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে আনুমানিক বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষক জুয়েলকে বাসায় পৌঁছে দেয় সাহেদ। পরে তার বাসায় সাহেদ আহম্মেদের ফেসবুক থেকে জুয়েলকে নিয়ে লাইভে আসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here