ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক :: 

নিকোলাস মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলা কেমন হবে সেটির একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলা হবে আমেরিকাস অঞ্চলের (উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ) জ্বালানির কেন্দ্র। বাজার হবে উন্মুক্ত, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিশ্চিত করা হবে নিরাপত্তা। 

মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো এসব কথা বলেন। ভেনেজুয়েলার সবশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর প্রার্থীতা বাতিল হলে আরেক নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। মাচাদোর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মুক্ত ভেনেজুয়েলার অর্থ হলো- প্রথমত, নিরাপত্তা মিত্র গড়ে তোলা। যারা আমেরিকাস অঞ্চলে অপরাধীদের কেন্দ্র ভেঙে দেবে। এই মিত্র ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার জনগণের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো ধ্বংসে ভূমিকা রাখবে।

গত মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিতে নরওয়ে যান মাচাদো। এরপর আর দেশে ফেরেননি। নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণের’ পর গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি মাচাদোকে নিয়ে বলেন, ‘তিনি দেশের ভেতরে সমর্থনও পান না, সম্মানও পান না। তিনি একজন খুব ভালো মানুষ, কিন্তু তাঁর প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মান নেই।’
নিজের পাওয়া নোবেল পুরস্কার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন মাচাদো। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তিনি (ট্রাম্প) এর যোগ্য।’ মাচাদো আরও বলেন, গত শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প যা করেছেন, তা অর্জন করা অসম্ভব। আমার মনে হয়, তিনি বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি আসলে কী বোঝাতে চান।
মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। কারাকাসে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে শপথগ্রহণ শেষে তিনি মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেন। বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। বিবিসি জানিয়েছে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here