
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::
আমাজনের সবুজ হৃদয়ে জমেছে বিশ্বের নেতারা। জলবায়ু সংকটে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বানে শুক্রবার ব্রাজিলের বেলেম শহরে শুরু হলো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০।
এই কপ৩০ কেবল আরেকটি জলবায়ু সম্মেলন নয়, এটি প্যারিস চুক্তির দশ বছর পূর্তির মাইলফলক। বিশ্ব ইতিমধ্যে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতার সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনই যদি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তরের গতি না বাড়ানো যায়, তবে ক্ষতি আর ঠেকানো যাবে না।
উদ্বোধনী অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “স্বনির্ভরতার বদলে বেছে নিন বহুপাক্ষিকতা। মতাদর্শ নয়, ভরসা রাখুন বিজ্ঞানের ওপর।” তিনি সতর্ক করলেন সেইসব “বিশৃঙ্খলার নবী”দের, যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জলবায়ু কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
স্বাগতিক ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তাঁর পরিচিত আন্তরিকতায় অতিথিদের স্বাগত জানান। বেলেমের গরম আর আদ্র আবহাওয়ার মধ্যে বিশাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে বসেছে এই বৈশ্বিক সম্মেলন। হাজারো প্রতিনিধি ও সাংবাদিক এখানে জড়ো হয়েছেন ভবিষ্যতের পৃথিবী নিয়ে আলোচনায়।
নেতাদের আলোচনার পর এখন দায়িত্ব পড়েছে প্রতিনিধিদের কাঁধে। আগামী দুই সপ্তাহ ধরে চলবে আলোচনা ও দরকষাকষি। পুরো বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে বেলেমের দিকে— এই শহর দেখাতে পারে কি না, যে পৃথিবী এখনো একসঙ্গে কাজ করতে পারে, আর জলবায়ু পদক্ষেপ শুধু প্রতিশ্রুতিতেই নয়, মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।
বেলেম ক্লাইমেট একশন সামিট আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুলা দেখা করেন বিজ্ঞানী ও স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। তাঁরা “রিভার ক্যারাভান” নিয়ে মানাউস থেকে বেলেম পর্যন্ত নদীপথে যাত্রা করে আমাজন বন আর নদী ব্যবস্থার নতুন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। লুলা বলেন, “আমাজন শুধু ব্রাজিলের নয়, এটি গোটা পৃথিবীর ফুসফুস।”
আমাজনের সবুজ বুক থেকে যে আহ্বান উঠছে, তা যেন পৌঁছে যায় সারা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে। এখনই সময় কাজের, ফাঁকা প্রতিশ্রুতির নয়!



