মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::

খুলনার পাইকগাছাসহ প্রত্যন্ত এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রস্তুতকৃত নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত স্বনামে-বে-নামের বিভিন্ন ব্রান্ডের বিড়ি। কোন কোন সময় বিক্রেতাদের দু’এক জন ধরা পড়লেও বরাবর এর সাথে জড়িত হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ শনিবার ভোররাতে উপজেলার কপিলমুনি এলাকায় পেট্রোল পুলিশের হাতে ৮০হাজার শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সন্দেহে রূপালী বিড়ি ও একটি নম্বরবিহীন প্লাটিনা মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে।

কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে খুলনা থেকে রাজস্ব কর্মকর্তা জিন্নাতুল ফেরদৌস’র নেতৃত্বে রাজস্ব কর্মকর্তারা জব্দকৃত বিড়ি ও মোটরসাইকেল তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জিএম এমদাদুল হক জানান, সকালে কপিলমুনি বাজার এলাকা থেকে উক্ত বিড়ি বোঝাই নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ এর চালক দেলোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়।

এসময় সে বৈধ কাগজ-পত্র আনতে চলে যায়। খবর পেয়ে দুপুরের পর জিন্নাতুল ফেরদৌস’র নেতৃত্বে খুলনা রাজস্ব কর্মকর্তারা রূপালী বিড়ির ৮০হাজার শলাকা ও প্লাটিনা মোটরসাইকেলটি জব্দ করে নিজ হেফাজতে নিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ২৫
অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিদের্শে উপজেলা সেনেট্যারী ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল পৌরসদর থেকে ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত মনির বিড়িসহ যশোরের মনিরামপুর থানার চন্ডিপুর এলাকার মো. আলী হোসেন বিশ্বাসের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেন।

জব্দকৃত বিড়ির চালান নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে নিলে পাইকগাছার সোলাদানার বয়ার ঝাপার মৃত আ. সামাদ বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রউফ বিশ্বাস নিজেকে সাবডিলার ও সাতক্ষীরার আশাশুনীর ছোবান ঢালীর ছেলে রেজোওয়ান ইসলাম রনি ও সোলাদানার বয়ারঝাপা গ্রামের মো. আবুল কাশেম এর ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম নিজেদের কোম্পানীর এসআর পরিচয়ে তাদের আমদানিকৃত সমুদয় বিড়ির প্যাকেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল আসল বলে দাবি করে তাদের কোম্পানী সরকারকে যথাযথ রাজস্ব দেয় বলে চ্যালেঞ্জ করে।

এসময় জব্দকৃত বিড়ির চালান পরীক্ষিত ফলাফলের ভিত্তিতে আইনানুগ যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণের শর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মৌখিক নির্দেশে সাবডিলার উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বয়ারঝাপা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রউফ বিশ্বাসের জিম্মায় রাখা হয়। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে স্যানিটারী কর্মকর্তা উদয়
কুমার মন্ডল মনির বিড়ির ৪টি নমুনা প্যাকেট পরীক্ষার জন্য দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে প্রেরণ করেন। যার পত্র নং-উপঃস্বাঃকমঃ/স্যানি/পাইক/খুল/২০২১/৯০৮, তারিখ ২৬/১০/২১ইং।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিঃ এর অরিজিনেশন, গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. খশরুজ্জামান স্বাক্ষরিত গত ৮ নভেম্বর পত্র নং ৫৩.১৮.৩৩০০.০৩৮.১৬.১৩৪.২০২১-১৩৪ মাধ্যমে উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টরকে জানানো হয় যে, তাদের কাছে পাঠানো মনির বিড়ির ৪টি প্যাকেটে লাগানো ব্যান্ডরোলগুলো নকল। সর্বশেষ অরিজিনেশন, গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পাঠানো তথ্যর ভিত্তিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মমতাজ বেগম গত ২৪নভেম্বর ১৩৪৮নং স্মারকে জব্দকৃত বিড়িগুলি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার অথবা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের দফতরে ফেরৎ দেওয়ার জন্য জিম্মাদার আব্দুর রউফ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন। এরপর অদ্যাবধি তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্যকর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল জানান, এ ঘটনায় তিনি ১৮৬০ এর ২৫৫ এবং ২৬০ ধারায় মনির বিড়ি কোম্পানীর মালিক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চন্ডিপুর ঘিবা গ্রামের মো. জামসেদ আলীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে ৫জনের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ ট্যারিফ আইনে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোলের সরকার নির্দ্ধারিত মূল্য নির্দ্ধারন করা হয়েছে, ৯ টাকা ০৯ পয়সা। অথচ বাজারে যত্রতত্র বিভিন্ন স্বনামে বেনামের ভুঁইফোড় বিভিন্ন কোম্পানীর নামে নিম্নমানের
বিভিন্ন বিড়ি সরকার নির্ধারিত মূল্য’র চেয়ে নাম মাত্র মূল্যে বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি প্যাকেট ২৫ (শলাকা) বিড়ির দাম ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নিন্মমানের কম দামের বিড়ি ৮/১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে বিড়ির প্যাকেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল গুলোর সরকারের কাছ থেকে খরিদকৃত টাকার চেয়েও কমদামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here