ব্রেকিং নিউজ

৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের অনলাইন প্রতিবাদ কর্মসুচি

 

ঢাকা :: বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে নারী শিশুসহ সকল শ্রমজীবি দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ ৭ দফা দাবিতে সারাদেশে অনলাইন প্রতিবাদ কর্মসুচি পালন করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এই কর্মসুচিতে সারাদেশের কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, বিশিষ্ট ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী অংশগ্রহণ করেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় সকলকে ধন্যবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত মার্চ মাসের ৮ তারিখ থেকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। অর্থাৎ প্রায় ৩ মাস পর বাংলাদেশে এই ভয়ংকর সংক্রমণ আঘাত হানে। ততদিনে অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনা সংক্রমণ রোধ করা জরুরী ছিল তখন গার্মেন্টস খুলে দিয়ে শ্রমিকদের এক ভয়াবহ বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়া হল। অন্যদিকে সারাদেশে হাসপাতালগুলিতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডাক্তার- নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হলে এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী,স্বাস্থ্য মন্ত্রী পিপিই সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমানে আছে বললেও বাস্তবে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত পিপিই না পাওয়াতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অথবা সমাজে নানাভাবে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা

এই দুর্যোগকালীন সময়ে সমাজে অধস্তন নারী সবচেয়ে বেশি লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। কারণ তাদের যেমন অর্থনৈতিক কাজে ভুমিকা রাখতে হয় পাশাপাশি পরিবার, সন্তান দেখাশুনাসহ নানা কাজ তাদের করতে হয়। লকডাউন পরিস্থিতিতে অস্থিরতার সকল কুফল নারীকে ভীষণভাবে বিপন্ন করেছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র অবিলম্বে মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের স্ব স্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে ৭টি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে-

১. নারী শিশুসহ সকল শ্রমজীবি দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা কর।

২. দেশের মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্ত বাতিল কর। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান কর, ছাটাই বন্ধ কর।

৩. গৃহকর্মীদের সবেতন ছুটি, রেশন ও বিশেষ ভাতা দাও।

৪. ডাক্তার-নার্স-ওয়ার্ডবয়-আয়াসহ চিকিৎসার সাথে যুক্তদের পিপিই, স্বাস্থ্য ঝুঁকি ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা দাও।

৫. গ্রাম-শহরে গুরুত্ব দিয়ে প্রসূতি নারীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত কর।

৬. নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও।

৭. কৃষকদের ভর্তুকি ও খাদ্য নিরাপত্তা দাও। ত্রাণ সংগ্রহে হয়রানি, নির্যাতন বন্ধ কর ও চুরি কঠোর হস্তে দমন কর।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পুলিশের ১৮০ নারী সদস্য গেলেন শান্তিরক্ষা মিশনে

স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশ পুলিশের ১৮০ জন নারী সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ...