ব্রেকিং নিউজ

৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের ৪৬তম বাজেট স্টাফ রিপোর্টার :: ১১ বারের মতো মহান সংসদে জাতীয় বাজেট প্রস্তাব পেশ করার গৌরব অর্জন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের ৪৬তম বাজেট উপস্থাপন করেছেন। দেশের ইতিহাসে সবোর্চ্চ ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে তিনি রেকর্ড গড়েন।

সিলেটের আরেক কৃতি সন্তান মরহুম সাইফুর রহমান ১২টি বাজেট উপস্থাপন করে রেকর্ড গড়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বৃহস্পতিবারের এই বাজেটটি ছিল আবুল মহিতের জীবনের টানা নবম বাজেট উপস্থাপন। এর আগে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সরকারের আমলে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে তিনি দু’টি বাজেট পেশ করেছিলেন।

এর আগে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল হালকা টিয়া রঙের ওপর বুটিক দানার জামদানি শাড়ি। থ্রি কোয়ার্টার ব্লাউজ। অর্থমন্ত্রীর পরনে ছিল হালকা টিয়া রঙের সিল্কের পাঞ্জাবির ওপর কালো মুজিব কোট। অর্থমন্ত্রীর চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস। হাতে ছিল একটি কালো ব্রিফ কেস। সংসদ কক্ষ ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীসহ প্রায় সবাই অধিবেশনে অংশ নেন। বাজেট বক্তৃতা প্রত্যক্ষ করতে রাষ্ট্রপতিসহ দেশ-বিদেশের উচ্চ পর্যায়ের অনেক ভিভিআইপিদের সমাগম ঘটেছিল সংসদ ভবনে। এজন্য নেয়া হয়েছিল অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিথিদের আগমন উপলক্ষে লাল কার্পেট ও ফুলের টব দিয়ে সাজানো হয়েছিল সংসদ ভবন। সবাই ছিলেন বেশ হাসিখুশি মুডেই। সর্বত্র ছিল একটি উৎসবমুখর আমেজ। উৎফুল্ল ও হাস্যোজ্জল অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতাকালে মাঝেমাঝেই হাস্যরসের মাধ্যমে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিসহ উপস্থিত ছিলেন ভিভিআইপিরা
বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংসদে নিজ কক্ষে বসে বাজেট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করেন। ভিভিআইপি গ্যালারিতে নিজ নিজ কামরায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, নৌবাহিনীর প্রধান  অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও দাতা দেশসমূহের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষের নির্ধারিত চেয়ারে বসে বাজেট বক্তৃতা প্রত্যক্ষ করেন। তাদের মাঝে অর্থমন্ত্রীর ইংরেজিতে প্রিন্ট করা বাজেট বক্তৃতা সরবরাহ করা হয়। ঘড়ির কাঁটায় ১টা ৩৫ মিনিটে বাজেট বক্তব্য শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপিত বাজেট  বক্তৃতার পুরোটাই বড় বড় স্ক্রিনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়টি দর্শকদের নজর কাড়ে। শারীরিক কারণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত স্পিকারের অনুমোদন নিয়ে বসেই বাজেট বক্তৃতা করেন। তবে অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন।

খসড়া বাজেট অনুমোদন
বাজেট বক্তৃতার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে মন্ত্রী পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতি বছর বাজেট উত্থাপনের আগে রেওয়াজ অনুযায়ী এই বৈঠকটি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন পাওয়ার পর বাজেট বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদের উত্তর পাশ্বের প্রেসিডেন্ট প্লাজা দিয়ে সংসদ ভবনে আগমন করলে তাকে স্বাগত জানান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া।

অর্থ বিল উত্থাপন (এখনও উপস্থাপিত হয়নি)
বাজেট বক্তৃতা শেষে অর্থমন্ত্রী অর্থ বিল- ২০১৭ সংসদে উত্থাপন করেন। সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। বিলটি আগামী ২৯ জুন পাস হবে। একইসঙ্গে সংসদ কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৫ ঘণ্টা আলোচনার পর আগামী ২৯ জুন ‘২০১৭-১৮’ অর্থ বছরের বাজেট পাস হবে।

বিরোধী দলের রেকর্ড
টানা চতুর্থবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত থেকে রেকর্ড গড়েছেন বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এর আগে নবম জাতীয় সংসদে মহাজোট সরকারের পাঁচটি বাজেট অধিবেশন বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল বর্জন করলেও এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় সদস্যরা বাজেট উত্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন বর্জন করে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আর সর্বশেষ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেট উত্থাপনের আগে বিরোধী দল অধিবেশনে যোগ দিলেও বাজেট উত্থাপনের দিন তারা অধিবেশন কক্ষে যাননি। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বসে তারা বাজেট বক্তৃতা শোনেন।

– See more at: http://www.bd-pratidin.com/national/2017/06/01/236752#sthash.rTROaSm3.dpuf

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী আজ

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী আজ

স্টাফ রিপোর্টার :: বাঙালির সব আবেগ, অনুভূতিতে জড়িয়ে থাকা চিরবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ...