মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::

খুলনার পাইকগাছায় ৫ম দিনের ভারী বৃষ্টিতে চিংড়িঘের ভেসে ও ফসল নষ্ট হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার চিংড়িঘের ও পুকুর জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়েছে। বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বজ্রপাতের সাথে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। টানা কয়েক ঘন্টার ভারী বর্ষণে মূহুর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা। বাড়ী-ঘর, রাস্তা-ঘাট, স্কুল কলেজের মাঠ, ফসলের ক্ষেত, চিংড়িঘের ও পুকুর জলাশয় তলিয়ে যায়। উপজেলার বেড়িবাঁধের ভিতর ও বাইরের শত শত চিংড়িঘের তলিয়ে মাছ ভেসে
গেছে। রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে এলাকার নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার ও বৃষ্টি পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙে যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করা হয়েছে। পৌর বাজার এবং বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি বাজারের রাস্তা তলিয়ে চলাচল ব্যাহত হয়। উপজেলার বাইশারাবাদ বেঁড়িবাধ ভেঙে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর পানিতে তলিয়ে যায়। ভারি বৃষ্টিতে বাড়ির উঠান ছাপিয়ে নিচু ঘরে পানি প্রবেশ করে। কাচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার চিংড়ি লীজ ঘেরে সদ্য রোপণকৃত আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

কপিলমুনি বাজারের ব্যবসায়ী প্রভাত কুমার বসু বলেন, বাজারে অনেক ব্যবসায়ীর দোকানে পানি প্রবেশ করে মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে কাদামাটি ও নোংরা পানিতে বাজারে আসা ক্রেতাসহ দোকানীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, ভারী বর্ষণে ২ হাজার ৯২৫টি চিংড়ি ঘের ও পুকুর জলাশয় তলিয়ে গিয়ে একাকার হয়ে যায়। এতে ১ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বীজতলা ও সবজি সহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান।

পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজু হাওলাদার জানান, পূর্ণিমা ভারি বৃষ্টি এবং বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ থাকায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানি উপকূলে বেঁড়িবাধ উঁপচে পড়ে বিভিন্ন পোল্ডার প্লাবিত হয়েছে। পাইকগাছায় প্রায় ৩০ কি.মি. বেঁড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। বাইশারাবাদ বেঁড়িবাধ ভেঙে গেলে তা মেরামত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনে খালের অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা স্ব-স্ব ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here