৩৫ বছরেও গাইবান্ধায় মাছের ঘাটতি: পুষ্টি ও উপকারবঞ্চিত মানুষ

৩৫ বছরেও গাইবান্ধায় মাছের ঘাটতি

রওশন আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: ১৯৮৪ সালে গাইবান্ধায় মৎস্য ভবন প্রতিষ্ঠিত হলেও চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম হওয়ায় এ জেলায় এখনো ঘাটতি রয়েছে মাছের। প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা ব্যয় হলেও দীর্ঘ ৩৫ বছরেও মাছের ঘাটতি পূরণ হয়নি এ জেলায়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন প্রকার দেশীয় মাছ বিলুপ্ত ও বাজারে মাছের আমদানি কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে মানুষকে। এতে করে নিন্ম আয়ের মানুষরা মাছ কিনতে না পেরে পুষ্টি ও মাছ খাওয়ার উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, আমিষের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন একজন নারীকে ৫৫ গ্রাম ও পুরুষকে ৬৫ গ্রাম করে মাছ খেতে হয়। জেলায় মৎস্যজীবি সমিতি রয়েছে ৯২টি, মৎস্য চাষি ৩৪ হাজার ২২৭ জন ও জেলে রয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৫ জন। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে গাইবান্ধায় মাছের ঘাটতি ছিল ১৫ হাজার ৩৪ দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন, ২০১৪-২০১৫ তে ১৫ হাজার ২৫৭ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন, ২০১৫-২০১৬ তে ১৩ হাজার ১৬৪ দশমিক ১ মেট্রিক টন, ২০১৬-২০১৭ তে ১১ হাজার ৬১৩ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১০ হাজার ৪৯৮ দশমিক ১৩ মেট্রিক টন মাছ।

মাছ ঘাটতির কারণ হিসেবে জেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, আয়তন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জলাশয় না থাকা, সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়া, একেবারেই সেচ দিয়ে পুকুর, বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে মাছ ধরা, অতিরিক্ত রোদ, প্রযুক্তির অভাব, বিভিন্ন প্রকার জলাশয়ের মাটিতে পানি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়া, শুকনো মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা শুকিয়ে যাওয়া ও বন্যা আসন্ন হলে জলাশয়গুলোতে মাছ ছেড়ে না দেওয়াসহ আরও বেশ কিছু কারণে মাছ ঘাটতি হচ্ছে।

এদিকে গাইবান্ধায় মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম চালু হওয়ার ৩৫ বছরেও ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে মাছের। আর এই দীর্ঘ সময়ে এ খাতে ব্যয়ের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যাবে। জেলায় মাছের এই ঘাটতির কারণে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে মানুষকে। আর এই ঘাটতির কিছুটা পূরণ হচ্ছে অন্য জেলা থেকে বেশি দামে মাছ কিনে এনে। মাছের দাম বেশি হওয়ার কারণে নিন্ম আয়ের মানুষরা মাছ কিনে খেতে পারছেন না। ফলে তারা পুষ্টি ও মাছ খাওয়ার উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ ছাড়া মাছ চাষীদের জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে নেই কোন ঋণের ব্যবস্থা। এজন্য ঘাটতি পূরণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করে ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে বলে মনে করেন মৎস্য চাষীরা।

সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পিয়ারাপুর গ্রামের রাকিব মৎস্য হ্যাচারীর স্বত্ত্বাধীকারি রাকিবুর রহমান রাকিব বলেন, মৎস্য বিভাগ থেকে মাছ চাষীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে হঠাৎ লোকসানের মুখে পড়া চাষীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এই ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করলে মানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হবে এবং মাছ চাষীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

গাইবান্ধা জলবায়ু পরিষদের সদস্য সুজন প্রসাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যথাসময়ে বৃষ্টি না হয়ে অন্য সময়ে হচ্ছে। মাছের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পেছনে এটিও একটি বড় কারণ। তাই জেলায় মাছের ঘাটতি পূরণ করতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহন করতে হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুদ দাইয়ান বলেন, অনেক আগে থেকেই এ জেলায় মাছের ঘাটতি রয়েছে। আমরা এ সংকট থেকে উত্তরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এখন এই জেলায় প্রতিবছরই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের জনবলের ঘাটতি আছে, তাই এই খাতে জনবল বাড়াতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জয়পুরহাটে মাসব্যাপী হস্ত ও কুঠির শিল্প মেলা উদ্বোধন

এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট প্রতিনিধি :: জয়পুরহাটে মাসব্যাপী হস্ত ও কুঠির ...