ডেস্ক রিপোর্ট:: ঈদের পঞ্চম দিনেও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মজীবী মানুষের চাপ নেই। এ ছাড়া ঘাটে ঢাকাগামী যানবাহনের কোনো সিরিয়াল না থাকায় স্বস্তিতেই যাত্রী ও যানবাহন ফেরিতে নদী পার হতে পারছে। পদ্মা সেতু চালু হবার আগে ঘাটের যে চিরচেনা দুর্ভোগ ছিল তা আগের মতো নেই। যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ফাঁকা। কর্মমুখী মানুষের তেমন কোনো চাপ নেই। এ ছাড়া ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী যানবাহনের কোনো সিরিয়াল নেই। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রী ও যানবাহনগুলো ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি ফেরির দেখা পাচ্ছে। ঘাটে যানবাহন ও যাত্রী না থাকায় ফেরিগুলো অলস সময় পার করছে।

 

যাত্রী ও যানবাহন না থাকায় ফেরিগুলোর ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে সময় বেশি লাগছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। আগে যেখানে যানবাহন ফেরির জন্য অপেক্ষা করত এখন সেখানে ফেরিগুলো যানবাহনের জন্য ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে।

 

এ ছাড়া দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট এলাকাতেও যাত্রীর তেমন দেখা নেই। যাত্রী কম থাকায় ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যেতেও সময় বেশি লাগছে। আগে যেখানে ১৫/২০ মিনিট পরপরই ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যেত সেখানে এখন যাত্রী কম থাকায় ৪০/৫০ মিনিট পরপর লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের সময় নষ্ট হচ্ছে।

 

দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা চান্দুু মোল্লা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হবার পর থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট একদম ফাঁকা। আগে ঘাট এলাকা যেমন জমজমাট ছিল এখন তেমন নেই। সুনসান নীরব পরিবেশ। প্রত্যেকবার ঈদে ঘাটে যেমন ভোগান্তি থাকত এখন তেমন নেই। মানুষ স্বস্তিতেই নদী পার হতে পারছেন।

 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান বলেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘাট এলাকা ফাঁকা।ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের কোনো চাপ নেই। ঘাটে যে সব যাত্রী ও যানবাহন আসছে তারা ভোগান্তি ছাড়াই ফেরিতে উঠতে পারছেন।এ ছাড়া ঘাটে ঢাকামুখী কোনো যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সারি নেই। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। চাপ বাড়লেও ঘাটে ভোগান্তি থাকবে না।

 

তিনি আরও বলেন, যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কম থাকায় বহরে থাকা ২১টি ফেরির মধ্যে ছোট-বড় ৮টি ফেরি সচল রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে চাপ বাড়লে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

 

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here