সন্ধান মেলেনি চিকিৎসক রিয়াদ নাসের চৌধুরীরষ্টাফ রিপোর্টার :: অপহরণের ১৯ দিন পরও সন্ধান মেলেনি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ নাসের চৌধুরীর। তার ভাগ্যে কি ঘটেছে সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তাই চিকিৎসকের স্বজনরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে পুলিশের দাবি- ‘তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে, খুব শিগগিরই অপহৃত চিকিৎসকের বিষয়ে জানা যাবে।’

২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের পাশে একটি চায়ের দোকান থেকে জোর করে তুলে নেয়া হয় চিকিৎসক রিয়াদ নাসের চৌধুরীকে। ঘটনার সময় তিনি তার সহকর্মী ডা. সালেকের সঙ্গে ওই দোকানে চা পান করছিলেন। দুর্বৃত্তরা শত শত মানুষের সামনে থেকে চিকিৎসককে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ডা. রিয়াদ নাসের চৌধুরী।

ঘটনার পর ওই রাতেই পল্লবী থানায় মামলা করেন অপহৃত চিকিৎসকের ছোট ভাই মেধাদ নাসের চৌধুরী। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে  বলেন, কে বা কারা তার ভাইকে অপহরণ করতে পারে তা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার নাম উচ্চারণ করে মেধাদ নাসের জানান, তার মোবাইল নম্বর মামলায় দেয়া হয়েছে। ওই মোবাইল থেকে তার বড় ভাইকে একাধিকবার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি এর আগেও একবার ওই চক্র অপহরণের চেষ্টা করেছিল। মেধাদ নাসের অভিযোগ করেন, এসব বিষয় জানলেও এতদিনে পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করেনি।

মেধাদ নাসের চৌধুরী আরও জানান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথে পড়ার সময় লুনা আনিকা নামে এক চিকিৎসকের সঙ্গে তার ভাইয়ের বন্ধুত্ব হয়। কিছুদিন আগে ভাইয়ের ওই বান্ধবীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ওই কর্মকর্তা ভাইয়ের সঙ্গে তার স্ত্রীর বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে তাদের (কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী) মধ্যে ঝামেলা হয় বলে তারা (ডা. রিয়াদের পরিবার) জেনেছিলেন।

ওই ঘটনার পর কোস্টগার্ড কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তার ভাইকে মোবাইল ফোনে হুমকিও দেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে ১৬ মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর সেকশনে কনভেনশন হলের সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি ভাইকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় তারা নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তবে সে দফায় তারা সফল হয়নি।’

ডা. রিয়াদ নাসের চৌধুরীকে যেদিন অপহরণ করা হয় সেদিন পূরবী সিনেমা হলের পাশের মার্কেটের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি ক্যামেরা) সে দৃশ্য ধরা পড়ে। পুলিশ সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই ফুটেজ জব্দ করেছে।

পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে ডা. রিয়াদ নাসেরকে ৪-৫ জন যুবক একটি মাইক্রোবাসে জোর করে তুলে নিচ্ছে। তবে তাদের চেহারা স্পষ্ট নয়। এছাড়া মাইক্রোবাসটিতে ঢাকা মেট্রো চ-৫৩-১৩৮২ নম্বরের নম্বর প্লেটটি ভুয়া। ওই নম্বরের মাইক্রোবাসটি অনেক আগে থেকেই মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় আটক রয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

অপহরণের নেপথ্যে কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা জড়িত মর্মে স্বজনরা যে অভিযোগ করেছেন সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, মামলায় যে মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ করা হয়েছে সেটির মালিক তিনি (কোস্টগার্ড কর্মকর্তা)। থানা পুলিশ অপহরণের এ মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করলেও এ ঘটনা নিয়ে আরও কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। তাছাড়াও শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে এ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়মও নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই আবু সাঈদ বলেন, তদন্তে ভালো অগ্রগতি আছে। খুব শিগগিরই ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। ডা. রিয়াদ নাসেরকে কারা অপহরণ করেছে কিংবা এখন তিনি কোথায় আছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই আবু সাঈদ বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু বলা যাচ্ছে না।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here