১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস স্বীকৃতির দাবি

ছবি: জুনাইদ আল হাবিব

স্টাফ রিপোর্টার :: শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কোস্টাল জার্নালিজম নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সহযোগিতায় ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস স্বীকৃতির দাবিতে এক গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু।

বক্তব্য রাখেন, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, পটুয়াখালী-৩ আসনের শাহজাদা সাজু, পানিসম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ইকতেদার আহমেদ, পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আবদুল লতিফ মাসুম, জল ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ইনামুল হক, উন্নয়ন বিশ্লেষক গওহার নঈম ওয়ারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জলবায়ু অর্থায়ন এবং পরিবেশ বিশ্লেষক এম জাকির হোসেন খান।

পানিসম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা এখনো সবার দুঃসহ স্মৃতি হয়ে রয়েছে। এজেন্ডা-ভিত্তিক বার্ষিকভাবে উপকূূূল দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার উপকূলে যে সামাজিক বনায়ন করে থাকে তা আবার ২০ বছর পরে কেটে কমিউনিটির মধ্যে দেয়া হয়, যা টেকসই উন্নয়নের সাথে যায় না। সরকার এই নীতি পরিবর্তন করতে পারলে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়াও বর্তমানে উপকূলে যেসব স্লুইসগেট আছে তা ডিজাইন হয়েছে ১৯৭০ সালে, যা এখনকার জন্য উপযোগী নয়। এগুলো পরিচালনা করার মতো কেউ নেই। সাইক্লোন শেল্টারগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয় না, যার অন্যতম কারণ হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা।

মেজর (অব:) আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের সাইক্লোন ওয়ারনিং সেন্টার সেকেল প্রণীত হয়েছে ব্রিটিশদের দ্বারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি সাধারণ মানুষের বোঝার উপযোগী নয়। আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে গ্রহণযোগ্য নতুন ওয়ারনিং সিস্টেম প্রয়োজন। ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে উপকূলে দুর্যোগের অবস্থা আরো গুরুতর হবে। আশেপাশের দেশগুলোতে যেভাবে দুর্যোগ আঘাত হানছে তা প্রতিহত করা বাংলাদেশের জন্য কষ্টসাধ্য হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ইকতেদার আহমেদ বলেন, জোয়ারভাটার কারণে উপকূলের নদীভাঙন সারা বছরই থাকে। উপকূলবাসীদের দিকে নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়িয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন। ম্যানগ্রোভ না থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেত।

পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আবদুল লতিফ মাসুম ১২ নভেম্বরের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পূর্বদেশে ‘ওরা আসেনি’ শিরোনামের সংবাদকে স্মরণ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নারীর জন্য নিরাপদ সুবর্ণচর গড়ার প্রত্যয়

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নারীর জন্য নিরাপদ সুবর্ণচর গড়ে তুলতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ...