১২৫ দেশে লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন নাজমুন নাহার

নাজমুন নাহার

স্টাফ রিপোর্টার :: ১২৫টি দেশে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশে ফিরছেন ভ্রমণ কণ্যা নাজমুন নাহার। বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নাজমুন নাহার এবার টানা তিন মাসে পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ পরিভ্রমণ করেন। পৃথিবীর পথে পথে ঘুরে বেড়ানো নাজমুন নাহার আগামী ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল নয়টায় এয়ার এরাবিয়ায় দেশের মাটিতে পা রাখবেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুইডেন থেকে টেলিফোনে ইউনাইটেড নিউজকে এ তথ্য জানান নাজমুন নাহার।

নাজমুন নাহার জানান, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গত তিন মাস তিনি মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মালি, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, বুরকিনা ফাসো, গানা, টগো, বেনিন, নাইজার, নাইজেরিয়া ভ্রমণ করেন।

তিনি আরো জানান, যে ১৫টি দেশে তিনি গিয়েছিলেন এগুলো সাহারা মরুভূমির নিচের দিকে। ফলে তিনি বেশ কয়েকবারই ধূলিঝড়ের মুখে পড়েছিলেন। সব জায়গায় ঠিক মতো খাওয়ার পানিও পাওয়া যায় নি। কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলেন জঙ্গলের ভেতরে। কয়েক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করে আবার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

আফ্রিকার স্থানীয় আদিবাসী লোকজনের বাড়িতে থেকেছেন নাজমুন নাহার। মাটিতে ঘুমিয়েছেন, রাত কাটিয়েছেন জঙ্গলে। কখনও কখনও আদিবাসীদের সনাতন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়েও দিন কাটিয়েছেন তিনি।

নাজমুন নাহার যেখানে গেছেন সাথে করে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের পতাকা।বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে জাতিসংঘের তালিকাভূক্ত ১৯৩টি দেশ ভ্রমনের বিজয় উদযাপন করতে চান নাজমুন নাহার।

নাজমুন নাহার

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ভারতের ভূপালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে পৃথিবী দেখার শুরু হয় নাজমুন নাহারের।২০১৮ সালের ১ জুন তিনি শততম দেশ ভ্রমণের করেন আফ্রিকার জিম্বাবুয়ে পরিভ্রমণের মধ্য দিয়ে।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ভ্রমণ পথিকৃৎ হয়ে উঠা নাজমুন নাহারের জন্ম ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামে। ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। মা তাহেরা আমিন। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট। দালাল বাজার নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে স্টার মার্কসহ এসএসসি এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য তিনি সুইডেন যান। সেখানে লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।বর্তমানে সুইডেনে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে খন্ডকালীন চাকুরি করছেন।

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভয়াল ২১ আগস্ট আজ

স্টাফ রিপোর্টার :: ভয়াল ২১ আগস্ট আজ। ২০০৪ সালের এ দিনে রাজধানীর ...