ডেস্ক রিপোর্ট : : কুমিল্লার তিতাসের দুই ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ স্থাপনে ১২ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি বাজার থেকে কড়িকান্দি ইউনিয়নের চররাজাপুর গ্রামের মাঝে বহমান তিতাস নদীর ওপর স্থানীয় লোকজনের অর্থায়নে নির্মিত হয় ওই সাঁকো। যার ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কড়িকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের লোকজন নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি বাজারে যাতায়াতের জন্য তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন সরকারের উদ্যোগে একটি সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

গত প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহসীন ভূঁইয়া পুনরায় রাস্তাটির মাটির কাজের সংস্কার করেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাটি দিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগণ চলাচল করলেও অদ্যবদি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাজাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার আবুল কাশেম সরকার বলেন, নয়াকান্দি বাজারে যাতায়তের জন্য মানুষ অনেক বছর আগে থেকে এ সাঁকোটি ব্যবহার করে আসছে। জনগণের চাহিদা থাকায় প্রায় ১২ বছর আগে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চররাজাপুর ওয়ার্ডের মেম্বার মমিনুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে বিশেষ করে নারান্দিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের লোকজন খুব কম সময়ে ও কম খরচে চররাজাপুর হয়ে কড়িকান্দি বাজার ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে।

নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা অতি প্রয়োজন। সেতুটি নির্মাণ হলে এলাকার মানুষ সহজে উপজেলা সদরসহ কড়িকান্দি বাজারে যেতে পারবে। অপরদিকে কড়িকান্দি ইউনিয়নের লোকজন নয়াকান্দি বাজারে আসতে পারবে।

কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহসীন ভূঁইয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট স্থানে ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। যেহেতু এটি একটি বড় নদী সেহেতু এখানে অনেক বড় ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। বিশেষ করে কিছু দিনের মধ্যে এ অংশে নদী খননের কাজ শুরু হবে। নদী খননের পর সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান জানান, এই সেতুটি  নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে। বিষয়টি তার পর উপজেলা চেয়ারম্যান এটা এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার নিয়ে ঢাকায় পাঠাবেন। তখন আমাদের কাছে জানতে চাইলে আমরা তথ্য দেব। আমরা মাত্র পোস্ট মাস্টারের মতো।

উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এলাকার নতুন সেতু নির্মাণের তালিকা নেওয়া হয়েছে। যদি এই সেতুটির প্রস্তাব পাঠানো না হয়ে থাকে তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here