১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। এই মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচী নিয়েছে। জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন জানান, পাক হানাদার বাহিনীর সর্তক দৃষ্টি ছিল মুন্সীগঞ্জের দিকে। ওদের কাছে মুন্সীগঞ্জের দুরত্ব ছিল দুটি কারনে। প্রথমত মুন্সীগঞ্জ ঢাকা থেকে মাত্র সতেরো মাইল দুরে। দ্বিতীয়ত মাঝ পথে ধলেশ্বরী নদী ওদের নিরাপদ চলাচলের জন্য জরুরী। তাছাড়া কুখ্যাত দালাল পাকিস্তান নেজামে ইসলামের সহ সভাপতি মৌলানা আল মাদানীর পলায়নরত অবস্থায় মুন্সীগঞ্জের মানুষের হাতে নিহত হওয়ায় ঘটনা পাক হানাদারদের আগে থেকেই ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল। তাই ওরা মুন্সীগঞ্জে হানা দেয়ার শুরুতেই ব্যাপত হত্যা ও অগ্নিসংযোগ ঘটাতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা আরো জানায়, ২৫ মার্চ কালো রাতে ইয়াহিয়া খানের র্ববর বাহিনীর আক্রমনের খবর পাওয়ার পরক্ষনেই প্রতিরোধ সংগ্রামে নেমে পড়ে মুন্সীগঞ্জবাসী। ২৯ মার্চ হরগঙ্গা কলেজের তৎকালিন শহীদ মিনারে মুক্তিপাগল ছাত্র-জনতা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। একই দিন ছাত্র-জনতা মুন্সীগঞ্জ অস্ত্রাগার লুট করে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ে। ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে হানাদার বাহিনী মুন্সীগঞ্জে তাদের সুরক্ষিত দূর্গ হরগঙ্গা কলেজ থেকে পালিয়ে যায়। মুক্তিসনোরা তা টের পায় ১১ ডিসেম্বর ভোরে। এরপরই বিজয় মিছিলে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জবাসী।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/কাজী সাবিবর আহমেদ/মুন্সিগঞ্জ

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here