হোক প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা: হোক শুভ বুদ্ধির উদয়

লেখক- জুঁই জেসমিন

জুঁই জেসমিন :: প্রতিভা কার মাঝে নেই-?প্রতিভা সবার মাঝে আছে। তবে প্রতিভা প্রস্ফুটনে প্রতিবন্ধকতা কোথায় ? পরিবার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবখানেই প্রতিবন্ধকতা। পাঠ্যপুস্তকে অপ্রয়োজনীয় কিছু বিষয়, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য শিক্ষক- আর বেশিরভাগ বাবা মায়ের দৌড় মূলত অর্থ উপার্জন। আমাদের জানা বা ভাবা প্রয়োজন শিক্ষা আসলে কী? কেন প্রয়োজন, কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন? পাঠ্যপুস্তকে কী কী বিষয় প্রয়োজন। কিংবা সত্যিকার অর্থে একজন পরিপূর্ণ মানুষ গড়তে কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা আবশ্যক? শিশু হতে কিশোর তরুণ, এদের জীবন ও শরীর থাকে কাদা মাটির মতো – আর এই নরম কাদামাটি থাকা সময়ের মধ্যে জীবনের স্বপ্নগুলো ইচ্ছে মতো রাঙানো সম্ভব অনন্য কারুকাজে। শক্ত বা শুকনো মাটি দিয়ে যেমন হাড়ি পাতিল পুতুল ঘোড়া তৈরি করা যায়না, তেমনি বয়স বেড়ে গেলে জীবন রাঙানো যায়না নিজের মতো, আর মন মানসিকতাও থাকেনা। শিক্ষার মূল সৌন্দর্য বা রূপকার হলো প্রতিভা। গুচ্ছ গুচ্ছ প্রতিভার সমাহারে শিক্ষা নামে বর্ণটি সমাজে আবির্ভাব।

এরিস্টটল এর জীবনী একটুকরো ছুঁয়ে দেখুন, পৃথিবীতে প্রথমত সৃষ্টিশীল মানুষেরা একের পর এক সৃষ্টি করে গেছেন,করে গেছেন মহা কিছু আবিষ্কার, আর এই প্রতিভা হলো বিশেষ গুণ এক এক মনীষী বা বিজ্ঞানীর। এরিস্টটল বেঁচে থাকা অবধি তাঁর রচনাবলীর সফলতা নিজ চোখে দেখে যেতে পারেন নি। তাঁর হাতের লেখা এক হাজার রচনাবলী দু’ দুশো বছর তাঁরই কবরের পাশে পুঁতে রেখেছিলেন তাঁরই শিষ্যের শিষ্যের ছেলে। রোমের সেনাবাহিনী যখন গ্রীস দখল করেন তখন এরিস্টটলের কবর থেকে তাঁর লেখা রচনাবলী উদ্ধার করে কাজে লাগান। যা দুশো বছর মাটির ভেতর সিন্দুকে চাপা ছিলো। যা আজ পৌরনীতি রাষ্ট্র বিজ্ঞান নন্দনতত্ত্ব বই সমূহ। মুলত প্রতিভাকে ঘিরেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা চালু করা। গড়ে উঠে নানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দুঃখের বিষয় এই! আজ প্রতিভাঠাসা বহু শিক্ষার্থী পারেনি প্রতিভার লালন করতে, নেই কোনো সুযোগ বা সুবিধা। আজ এতো মেধাবী শিক্ষার্থী দেশে -তবে মানুষ হিসেবে বের হচ্ছে ক’জন?মেধাবী ছাত্ররাই আর এক মেধাবী ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করছে। বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যার কথা ভাবুন!

তার হত্যা কারী মেহেদি,অনিক সহ দলবল কতটা ভয়ংকর? ছাত্ররাজনীতি নামে দুষ্টু নীতির দুষ্টু চক্রে নষ্ট করছে পরিবেশ কেড়ে নিচ্ছে জীবন। ১৯৭৪ তথা ৪৫ বছরে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২২৬ টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মাত্র সেভেন মার্ডারের বিচার হয়েছে।এ জগতে মানুষের ভিড়ে মানুষের বড় আকাল। রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বার্থের দানা। না আছে দেশ প্রেম না নৈতিক মূল্যবোধ! শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ বের না হয়ে, বের হচ্ছে রাঘববোয়াল। ছাত্ররাজনীতি নামে চলে দাপট, জোর যার মুল্লুক তার। এযুগে সত্যের সাক্ষীতে এগিয়ে আসেনা কোনো প্রাণী। মিথ্যের সাক্ষী- এখন মানুষ,আর সত্যের সাক্ষী? সত্যের সাক্ষী প্রযুক্তির শিশি ক্যামেরা। আগের মানুষ সহজ সরল জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো তবে চিন্তা চেতনা ছিলো উন্নত, ছিল সৃষ্টিশীল। আর একালের বেশির ভাগ মানুষই উন্নত জীবনযাপনে মড়িয়া। মানবিকতাকে দাফন করে ছুটে চলে ভোগবাদী হয়ে লোভ ও লাভে নীচু মনের ভাবনা চিন্তায়। যে শিক্ষা লাভে সত্যিকার অর্থে মানুষ বের হবে সেসব শিক্ষা ব্যবস্থা ও নিয়ম নীতি বাস্তবায়ন করা দরকার- যেমন; কোনো শিশুকেই ছয় বছরের আগে কোনো স্কুলে ভর্তি করানো যাবে না।

বাবা মা জগতের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সেবিকা সেবক। তারা তাদের সেবা ভালোবাসা দিয়ে শিশুর প্রতিভাগুলো লক্ষ্য বা চিহ্নিত করবেন। উৎসাহ উদ্দীপনায় আনন্দের নির্যাসে জাগিয়ে তুলবেন সন্তানের প্রতিভা- যা বিধাতা প্রদত্ত বিশেষ গুণ প্রত্যেক শিশুর মাঝে। ছয় বছরের আগে শিশুকে কোনো প্রকার চাপ দেওয়া যাবে না। সুন্দর সুঠাম দেহে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা কমে যায় তাদের,এই চাপের কারণে। কিন্ডারগার্টেন মানেই চাপ মুখী স্কুল বা ব্রেইন প্রেসার স্কুল। প্রতিটি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুলে, ক্রীড়া বিষয়ক তথা ক্রিকেটার ফুটবলার এমন দক্ষ টিচার /কোচ থাকবে । শুধু তাই নয়, ফুটবল ক্রিকেটের পাশাপাশি হাডুডু খেলা ও বৌচি খেলা অবশ্যই সকল ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজন, আবশ্যক। প্রতিটি স্কুলে খেলার উপযোগী প্রশস্ত সবুজ মাঠ থাকবে। আজ সিজার, স্টেপ ছাড়া কোনো নারী স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব করতে পারে না। একটাই কারণ খেলাধুলা ও ব্যায়াম না করার কারণ। সেকালের মায়েরা দশ থেকে পনেরো সন্তানের মা হয়েছে।

কোনো ডাক্তারের কাছে যেতে হয়নি একটা টেবলেটও খেতে হয়নি সন্তান প্রসবে। কারণ সেকালের মেয়েরা খেলাধুলা প্রচুর প্রচুর করেছেন, বিকেল মানেই ছিলো খেলা আর খেলা। মা বাবার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ঘরেবাইরে কাজ করেছেন। আর বর্তমানে সিজার ছাড়া কোনো কথাই নেই। ক’জন মেয়ে খেলাধুলা করে রোজ বলতে পারেন? খেলাধুলা বা কায়িক পরিশ্রম করার সময় নেই এ যুগের ছেলেমেয়েদের। আর এ যুগে কোনো কিশোরী দল, বউচি বা কুতকুত খেললে নানা জনের নানান কথা ” এতো বড় মেয়ে বেহায়ার মতো কোমর বুকে ওড়না বেঁধে খেলার মানে টা কী? এই দৃষ্টি ভঙ্গি আমাদের, উন্নতি নয় অবনতি, তাও আবার এ যুগে যা সত্যিই লজ্জাজনক। বাবা মায়েদের একটাই গান পড়ো, পড়ো আর পড়ো।

দিনের পর দিন সাহিত্য সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিষ্ক্রিয় হতে চলেছে তালিম ও জলসা ওয়াজে। ধ্বংস হচ্ছে শিশুর প্রতিভা। ধর্মের ভয় ঢুকিয়ে বোরকা বন্দি করছে নারীদের, সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে করছে পঙ্গু। ধর্মকে ব্যবসায় পরিণত করে বাঙালির ঐতিহ্য সৌন্দর্য বিনষ্ট করে চলছে। স্থানীয় কলেজ স্কুল গুলোর দিকে তাকান, নারী শিক্ষার্থীদের শরীরে হিজাব আর বোরখা । না তাদের খেলায় অংশগ্রহণ না কোনো গান নৃত্যে। এসব করা নাকি পাপ? আমার বান্ধবী নীলা, মালার কথাই বলি যা তারা ছোটো থেকেই নাচে গানে কবিতায় বেশ পারদর্শী ছিলো, হঠাৎ তাদের বাবা মারা গেলে, তাদের বাসায় তালিমের একদল মহিলা আসে। নীলার মা’কে দিনের পর দিন নতুন নতুন হাদিস শুনিয়ে দুই মেয়ের নাচ গান কবিতা আবৃত্তি এবং কী ছবি আঁকাও বন্ধ করে দেন তালিমী মহিলারা।

এসব করলে নাকি বাবা মা জান্নাত পাবেনা! কবরে আযাব হবে। নীলা মালা দু’ জনেই এখন বোরকার ভেতরে। এসব বন্ধ হওয়াতে, তারা পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে আলোর ঘর রুদ্ধ করে অন্ধকার পথে হাটছে স্বপ্নবিহীন জীবন নিয়ে। আজ মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে যত ঘটনা ঘটে রটে, কেন ঘটছে? পবিত্র আল কোরআনের অর্থ না জেনে মুখস্ত বিদ্যার জোরে দলে দলে বের হচ্ছে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআনের হাফেজ, তুলে দেওয়া হচ্ছে মাথায় পাগড়ী, ভাষার অর্থ না বুঝলে কে কতটুকু সম্মান রাখবে ধর্মের? প্রতিটি হাফেজিয়া মাদ্রাসাতে অসংখ্য কোরআন মানুষ দান করে। যা প্রতিবছর হাদিয়া অনুযায়ী মাদ্রাসার অনেক কর্মকর্তা পবিত্র আল কোরআন’-বই বিতানগুলোতে বিক্রি করে দেন।

অথচ কয়েকমাস পর পর মাদ্রাসার বেশ কিছু ছাত্র কোরআন শিক্ষার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে কোরআনের হাদিয়া তুলেন। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ নিয়েও ব্যবসা। আজ মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে সূরা ইয়াসিন বা সুরা ইউনুছ এর অর্থ বলতে বলেন, সুরা ফাতিহার অর্থই বেশিরভাগ ছাত্র শুদ্ধভাবে বলতে পারবে না। অর্থ না বুঝে চললে ভুল বা অপরাধ হবেই- কারণ, অর্থই তো ভয় ভীতির সৃষ্টি করে বিবেক জাগিয়ে তোলে, শান্তি শৃঙ্খলার পথে নিয়ে চলে। কোরআনের প্রচ্ছদ পাতায় প্রথমেই লেখা আছে ” জালিকাল কিতাবু লারাইবা ফিহহি!” যার অর্থ- ইহা এমন একটি গ্রন্থ যাহার মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই” অতএব এই কোরআন অবশ্যই প্রত্যেককে অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করা উত্তম আর নামাজের প্রত্যেক সুরা ও দোয়া অর্থ বুঝে পড়া উত্তম।

অনেকেই বলে বিধাতা সব ভাষায় বুঝেন, হ্যাঁ অবশ্যই বিধাতা সব ভাষা বুঝেন কিন্তু যে ভাষা নিজেই বুঝলামনা যার অর্থ জানলামনা সেখানে, বিধাতাকে কোন ভাষায় ডাকবো?* আজ বেশির ভাগ থিয়েটার হল অচল হয়ে আছে বছরের পর বছর। হচ্ছেনা কোনো ঐতিহাসিক বা শিক্ষামূলক নাটক। আজ প্রতিভা প্রস্ফুটনের জন্য প্রতিটি স্কুল ও কলেজে গানের, আবৃত্তির, আর্টের, নাচের টিচার থাকা অবশ্যই জরুরী। গরিব ও মধ্য শ্রেণীর ঘরের প্রতিভাভরা ছেলেমেয়েদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি গান বা নাচ শেখা শহরে গিয়ে। বাধ্যতামূলক সাংস্কৃতিক শিক্ষাচর্চার সরকারি ভাবে ব্যবস্থা থাকলে আজ শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিভা ফুল ফোটাতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন এক শিক্ষার চাষবাস করা হলে – যে শিক্ষায় প্রত্যেকে নিজ নিজ মেধা কাজে লাগাতে পারে বিকশিত করতে পারে নিজেকে, এক কথায় শুভ বুদ্ধির উদয় হয় যেন মানবিক শিক্ষা লাভে। বাংলা, ইংরেজি, ধর্ম, সমাজ, বিজ্ঞান ইতিহাস, বই সমূহের পাশাপাশি তৃতীয় শ্রেণী হতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত দেশ প্রেম নামে একটি বই থাকবে সিলেবাসে। এই বইয়ের সূচিপত্রে থাকবে মানুষ ও মনুষ্যের সংজ্ঞা সহ বৈশিষ্ট্য, থাকবে মানবিকতা মূল্যবোধ নিয়ে কথা। থাকবে গল্প নয় সত্যি ৭১ এর ভয়াবহ দিনগুলির কথা,স্বাধীনতার শ্লোগানে বিজয়ের কথা। থাকবে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ভালোবাসা, প্রতিবেশীর অধিকার, জীবের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা।এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ প্রেম মানব প্রেম প্রস্ফুটিত হবে। এমন মানবিক শিক্ষা লাভে কখনওই খুনি ধর্ষক প্রতারক ঘাতক হিসেবে জন্ম নিতে পারবে না কেউ। প্রতি বৃহস্পতিবার করে ছাত্রছাত্রীদের মঙ্গল উদ্দেশ্যে বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান থাকবে।

যেমন;১. যুদ্ধ বিষয়ক চলচিত্র বা নাটক ২. খুনি ধর্ষকদের দৃষ্টান্ত মূলক সাজা বিষয়ে এমন নাটক বা প্রামাণ্য চিত্র, ৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক নব নব আবিষ্কার তথা শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনীষীদের জীবনী নিয়ে নাটক দেখানোর ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ প্রেম জাগ্রত হবে এবং অন্যায় কাজ হতে সতর্ক বা বিরত থাকবে। সৃষ্টি ও আবিষ্কার করার স্বপ্ন দেখতে পারবে অনেক ছাত্রছাত্রী। বৃহস্পতিবার দিনটি কাটবে তাদের, শিক্ষামূলক বিনোদনে। শিক্ষা মূলক বিনোদনের উপর ভিত্তি করে,অন্যান্য বিষয়ের মতো নেওয়া হবে পরীক্ষা, দেওয়া হবে প্রশ্নপত্র। অনার্স বা ডিগ্রিতে থাকবে ‘রাজনীতি’ ও দেশপ্রেম নামে সাবজেক্ট। যাতে সুনীতিতে ডিগ্রী লাভ করে বের হতে পারে রাজনীতিবিদ, রাজনীতি জীবী নয়।

আর তারাই দেশ সেবায় জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারবেন একমাত্র সুশাসক হিসেবে। তবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যোগ্য সরকারের নেতৃত্বদানে পৌঁছাতে পারবেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে উন্নয়নের চরম শেখরে। যে যার খেয়াল খুশিমত রাজনীতি করতে পারে না, পারবে না। একমাত্র সত্যিকারে দেশ প্রেমী ও রাজনীতি বিষয়ের উপর ডিগ্রী লাভকারী যারা তারাই রাজনীতি করতে পারবে। একজন রাজনীতিবিদ দেশের বাইরে বাড়ি করতে পারবে না। বসবাস করতে পারবে না অন্যদেশে এবং কী নিজ সন্তানকে পড়ালেখাও করাতে পারবেনা অন্য কোনো দেশে। এসবের মধ্যে কোনোটি করলে দেশের প্রতি মায়া ভালোবাসা দায়িত্ব ক্ষুন্ন হতে থাকবে। দেশের প্রতি টান বা আন্তরিকতা না থাকলে কর্তব্য দায়িত্ববোধে হবে ঢিলেঢালা এতে দেশে অনিয়ম,বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি খুন লুটপাট অন্যায়ে এক একটি বেইমান রাজাকার জন্ম নিবে । এমন খুন, ধর্ষণ অনাচার ব্যভিচারে দেশ আর দেশ থাকবে না।

বর্তমান যুগে নারী পুরুষ বেশিরভাগ কর্মজীবী, চাকুরীজীবী, পরিবারে লম্বা সময় দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। ভোর বেলা উঠেই রান্নাবান্না সেরে তড়িঘড়ি খেয়ে আট বা নয়টার মধ্যেই বের হতে হয় নিজ কর্মসংস্থানে। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। ক্লান্তিকর অবস্থায় সন্তানকেও ভালভাবে সময় দেওয়া হয়ে ওঠেনা। ফুরফুরে মন সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শুষে খায়। আবার এমন অসংখ্য পরিবার আছে স্বামী এক জেলায় কাজ বা চাকরী করে আর বউ এক জেলায়।

এতে মোটা অংকের অর্থই শুধু সঞ্চিত হয়, ছেলে মেয়েকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়না। শিক্ষিত নামে খুনি চাঁদাবাজি সন্ত্রাস বা ধর্ষকের জন্ম হয় এমন বাঁধন ছেঁড়া পরিবারে বা একে অপরের দূরত্বের কারণে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এক বিভাগ বা পদে দু’জন প্রার্থী নিয়োগের ব্যবস্থা হলে পরিবার সন্তানকে সময় দিতে পারবে প্রত্যেকে। উদাহরণস্বরূপ, যেমন একজন বাংলা বা বিজ্ঞান শিক্ষিকা বা শিক্ষক নয় ঘন্টার জায়গায় চার ঘণ্টা সময় দেবে স্কুলে, বাকি চার বা সাড়ে চার ঘণ্টার জায়গায় আর এক শিক্ষক থাকবে।

এতে পরিবারেও সময় দেওয়া হচ্ছে স্কুলেও সময় দেওয়া হচ্ছে আবার বেশি শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষিত বেকারত্বের সংখ্যাও কমছে। সব অফিস কর্ম ক্ষেত্রে এমনটি ব্যবস্থা করলে প্রত্যেক ব্যক্তি পরিবারে সময় দিতে পারবে। তাছাড়া একটানা পাঁচ বা ছয়টি ক্লাস প্রতি ক্লাসে গিয়ে এক শিক্ষক ক্লাস নিয়ে থাকলে সুন্দর ও সুস্পষ্ট ভাবে ধৈর্য্যের সাথে বুঝানোর ক্ষমতা থাকেনা একজনের পক্ষে। এতে সাবজেক্ট প্রতি একাধিক শিক্ষক অবশ্যই প্রয়োজন। প্রতিটি জেলা বা উপজেলায় শুধু মাত্র শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘স্টুডেন্ট হেলথ কেয়ার’ মেডিকেল থাকা অত্যন্ত জরুরী।

একজন শিশু থেকে বড় শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের চেম্বারে গেলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থাকতে হয় সিরিয়াল পেতে। এতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও শারীরিক অবস্থার অবণতি ঘটে। স্বামী স্ত্রী উভয়ে চাকুরীজীবী হলে একই জায়গায়- উপজেলা বা জেলায় চাকুরী করতে পারে সেই সুযোগের সুব্যবস্থা করতে হবে। যাতে পুরো পরিবার একসাথেই থাকতে পারে। জগতে যে যত ভয়ংকর অপরাধী বা খারাপ সেই তত মেধাবী।আর এই মেধার লালন না করাতে তারা ভয়ংকর হয়ে ওঠে অপকর্মে। এর জন্য দায়ী আজ কোনো অপরাধী না। দায়ী পরিবার ও শিক্ষক মহল সেই সাথে চাপমূখী পুঁথিগত শিক্ষা।

আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে রাজনীতি শিরোনামে রকমারি দল। আর ক্ষমতার প্রভাবে চলে নজিরবিহীন ঘটনা। শিক্ষা ভবনে শিক্ষার্থীদের হল’এ গড়ে উঠে টর্চার সেল! দিনের পর দিন সরল সহজ নিরীহ শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে! উপাচার্যের ভূমিকা বা দায়িত্ব, কী বা কতটুকু? রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন দেশে যদি টর্চার হল, মানুষ মারার কল’ই থাকে তবে কোথায় স্বাধীনতা কোথায় নিরাপত্তা, কোথায় সুশিক্ষা লাভের সুযোগ? তাই প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হোক,প্রতিভার হোক লালন, মানবিক শিক্ষা লাভে এগিয়ে চলুক সবাই শান্তি শৃঙ্খলার পথে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

 

 

 

জুঁই জেসমিন : লেখক মানবাধিকার কর্মী

juijesmin2019@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তাহমিনা কোরাইশী’র কবিতা ‘সম্পর্ক’

সম্পর্ক -তাহমিনা কোরাইশী একটি বীজ নিজ তাগিদেই মাটি ফুরে অবাক দৃষ্টিতে আঁখি ...