গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ::

তিন দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে পাইকারী ও খুচরা বাজারে দেশীয় কাঁচা মরিচ কেজিত দাম কমলো ২০ টাকা। চলতি শীত মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যটির দাম কমেছে আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।পণ্যটির দাম কমায় খুশি খেটে খাওয়া মানুষেরা।

আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারী) হিলি বাজার ঘুরে জানা যায়, তিন দিন আগে দেশিয় কাঁচা মরিচ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ সেই কাঁচা মরিচ পাইকারী ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা জুয়েল হোসেন বলেন,আমি তিন আগে কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আজ দাম কমায় এক কেজি কিনলাম ৩৫ টাকা দিয়ে।

হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা মুকুল বলেন,কাঁচা মচিরে মত অন্যান্য পণ্যের দাম যদি কমতো তাহলে আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষজনের খুব ভালো হতো। আজ বাজার করতে আসলাম দেখি কাঁচা মরিচের দাম অনেক কম তাই পাইকারী দরে এক কেজি নিলাম।

হিলি উপজেলার নয়ানগর গ্রামের কৃষক হাসেম আলী বলেন,আমরা কৃষকেরা কোন কিছু আবাদ করলে প্রথমে একটু দাম পাই। আমরা কৃষকেরা তো তেমন দাম পাইনা। যা পাই কোন রকম খরচ উঠে। আমি এক বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদ করেছি। তবে এবারে একটু ভালো দাম পেয়েছি। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় কাঁচা মরিচ এবার ভালো ফলন হয়েছে।

হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন,আবহাওয়া ভালো হওয়ায় পাঁচবিবি ও বিরামপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা ক্ষেত থেকে কাঁচামরিচ শুরু করায় দাম কমে আসছে। আমরা কম দামে কিনতে পারলে কম দামেই বিক্রি করে থাকি। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কমে আসবে।

প্রসঙ্গত,দেশে কাঁচা মরিচের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে গত বছরের ২৫ জন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এর ফলে দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধের পর গত ২৬ জুন ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়।

হিলি বন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক দুই হাজার ৯০০ মেট্রিকটন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পায়। এরপর দেশীয় কাঁচা মরিচের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়া গত বছরের ২১ নভেম্বর ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here