ব্রেকিং নিউজ

স্মৃতির পাতায় ক্যাম্পাসের দিন গুলো 

তানজিনা আক্তার লিজা

তানজিনা আক্তার লিজা :: ঢাকার অদূরে চির সবুজের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে একটি প্রতিষ্ঠান যার নাম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে এগিয়ে চলে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মানুষের স্বপ্ন যাত্রা শুরু হয়। আমারও ঠিক তাই হয়েছে।  আমার স্বপ্ন যাত্রা শুরু হয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির মধ্যে দিয়ে।
কিছু স্বপ্ন আকঁড়ে ধরে, সেই স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম ঢাকা ইন্টারন‍্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বাড্ডার সাতারকুলে তেপান্তর এক মাঠে ঠিক কেন্দ্র বিন্দু বরাবর ইট-পাথরে নির্মিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিট।
.
প্রথমে যে বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করে তা হলো – প্রবেশ দ্বারে সজ্জিত বিচিত্র  ফুলের সমারোহ। সারি সারি  রঙ-বেরঙের ফুলের গাছ । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা এই ঘর বন্দী জীবনে স্মৃতির পাতায় কম্পিত হচ্ছে। তরঙ্গের ন‍্যায় স্মৃতির রেখায় কম্পন সৃষ্টি করছে সেই বিভিন্ন রঙের অংকনের খেলা সেই ক‍্যাম্পাস। সকালে পাখির কলরবের ধ্বনি, শো শো বাতাস ,সবুজের সমারোহে সারি সারি গাছপালা আবার সূর্যাস্তের শেষে চন্দ্রের আর্বিভাবে সেই আলো ও বিভিন্ন রঙিন লাইটের রঙিন আলো মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে সকালে ও সন্ধ্যা বেলায় ।
স্নেহের বাধঁনে আটকে রাখা সেই শ্রদ্ধাশীল শিক্ষকদের কথা মনে পড়ছে। বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ বড় বোন -ভাইয়াদের কথা মনে পরছে। মিস করছি  বন্ধু – বান্ধবীদের সাথে ক‍্যান্টিনে বসে আড্ডায় মেতে ওঠার মুহূর্ত গুলো । বারো জন একসঙ্গে থাকলে ক‍্যাম্পাস ক‍্যান্টিনে প্রবেশ করলে বারোটা চেয়ার এক সাথে করার এক অফুরন্ত ছেলেবেলার আবেগ এটাই ছিল নিত্য দিনের স্বভাব। ক‍্যাম্পাসে বসে তালে তাল মিলিয়ে গুন গুন কন্ঠে গান গাওয়া সেসব মনে করে উদাসীন হচ্ছি।
.
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব‍্রেরীর কথা মনে পড়ে সারি সারি করে সজ্জিত আকারে সেই বইয়ের সমাহার এবং লাইব্রেরীতে প্রবেশের পর উচ্চ স্বরে হাসি দেওয়া বই পড়ার ফাকে ফাকে কিন্তু ম‍্যামের সেই হুংকার জনিত ধ্বনি কানে আসলে সব চুপ। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা মনে পরে।
১৩ ফেব্রুয়ারি খুব চমৎকার একটা দিন ছিল ক‍্যাম্পাসে। বড় ছোট ভেদাভেদ না করে আনন্দে আড্ডায় মেতে উঠেছিলাম ক‍্যাম্পাসের সেই পিঠা উৎসবে। হরেকরকম দেশি বিদেশি পিঠার বাহার, স্টলগুলোর নাম, নানান রঙের শাড়ি পাঞ্জাবী। সর্বশেষ এক বসন্তের ছোঁয়ায় খুবই সুন্দর ভাবে সজ্জিত হয়েছিল আমাদের ক‍্যাম্পাস।
.
করোনা মহামারী স্তব্ধ করে রেখেছে গোটা বিশ্বকে তারই আশঙ্কায় স্তব্ধ হয়েছে আমাদের প‍্রানপ‍্রিয় ক‍্যাম্পাসের উল্লাস। ইনশাআল্লাহ মহামারী জয় করে আবার ফিরবো সেই প্রানপ্রিয় ক‍্যাম্পাসের বুকে, সেই প্রত‍্যাশা নিয়ে স্মৃতির পাতায় কাটছে ঘর বন্দী জীবন।
.
.
.
.
লেখক: শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনা ভ্যাক্সিন: যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া আবারও স্নায়ুযুদ্ধের মুখোমুখি

শামীম আহমেদ :: রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছে তারা বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ...