ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনেও সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন সে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি যে রকম বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল এরকম একই ভাবে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে বাঙালি জয় লাভ করবে।

তিনি আজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে মহান বিজয় দিবস ২০২৩ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয়  সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম এবং সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলী আখতার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, আজকের বাংলাদেশের যে অগ্রগতি, স্বাধীনতার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবদান প্রশংসনীয়। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দক্ষতা আজ সর্বমহলে স্বীকৃত।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী পরবর্তীতে সকাল ১১টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, আজকের এই দিনটি অর্জিত হয়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের উন্নয়নকে থমকে দেওয়ার জন্য জাতির পিতাকে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে হত্যা করে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ যখন দরিদ্র বাংলাদেশ ছিল তখন কেউ আমাদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার শেখাতে আসেনি কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে তখন আমাদেরকে নানা রকমের নীতিকথা শুনতে হচ্ছে। প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে আছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন দেশকে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখনই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্বাচন কোনো অনুকূল পরিবেশ, প্রতিকূল পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। যদি জনগণের ওপর আস্থা থাকে, জনগণের সমর্থন থাকে তাহলে চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৫৪ সালে প্রথম যে নির্বাচন, ৭০ এর নির্বাচন, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনও আওয়ামী লীগের জন্য অনুকূল পরিবেশ ছিল না তারপরও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে।

সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সুসংগত করতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আসল কথা হলো, বিএনপি-জামাতের জনগণের ওপর আস্থা নাই এবং এটা প্রমাণিত হয়েছে, তাদের কোনো জনসমর্থন নাই।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here