ব্রেকিং নিউজ

স্বপ্ন উদ্যোগী জুঁই জেসমিন: ঘরে ঘরে পতাকা বিতরণ

 

বিশেষ প্রতিনিধি :: যে দেশ রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, স্বাধীনতা লাভের ৪৮ বছর পরেও আজও কেন বাংলার আকাশে বাংলার ঘরে ঘরে বিজয়ের পতাকা স্বাধীনতার পতাকা উড়েনি- যেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেটে ভিনদেশী পতাকা বাংলার প্রতিটি ঘরে, অফিসে উড়ে, এই বাংলায়। সেখানে কেন বাংলার পতাকা উড়েনা সব ঘরে ঘরে বাংলার আকাশে, মহান বিজয় দিবস আর আর মহান স্বাধীনতা দিবসে ? এ প্রশ্নটি সব সময় তাড়া দিন জুঁই জেসমিন কে।

স্বপ্ন উদ্যোগী জুঁই জেসমিন, তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের উদ্দেশ্যে, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন। তার চিন্তাকে সমর্থন জানান অনেকেই। এগিয়েও আসেন অনেকে। জুঁই জেসমিন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মেয়ে।তিনি একজন লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা থেকে নারী মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া বেগম তিনিও এ উদ্যোগে সাড়া দেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে পতাকা হাতে তুলে দেওয়ার এবং নিজ উপজেলা বালিয়াডাংগীতে উদ্যোগী জুঁই, মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম, বশির উদ্দিন সহ বেশ সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার সাথে কয়েক গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পতাকা তুলে দেন, যাতে ২৬ মার্চ ভোরে সূর্য উদিত হওয়ার সাথে সাথে ঈদ আনন্দের মতো প্রত্যক পরিবারে পতাকা উত্তোলন করেন সবাই।

পাঁচ উপজেলায় পতাকা বিতরণ ও উত্তোলন ক্ষুদ্র আয়োজনে। জুঁই জেসমিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কাজ জাতীয় ও স্থানীয় বেশ কিছু পত্রিকায় ছাপা হয়। তাঁর ইচ্ছে সারাদেশব্যপী মহান দিবসগুলোতে পতাকা উড়ুক বাংলার ঘরে ঘরে আকাশে বাতাসে। সবাই এগিয়ে আসুক এই উদ্যোগে, এই তাঁর প্রত্যাশা।

জুঁই জেসমিনের এই ব্যতিক্রম উদ্যোগের পাশে এসে দাড়িয়েছেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ড. কে, এম, কামরুজ্জামান সেলিম। জেলা প্রশাসক পাঁচ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন  দেশপ্রেমের এই উদ্যোগ ঘরে ঘরে পতাকা বিতরণের জন্য জুঁই জেসমিনকে আর্থিক অনুদান দিতে।

জুঁই জেসমিনের স্বপ্ন যেন বাস্তবায়নের পথে। তার এখন তার নির্ঘুম রাত কাটছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে জেলার প্রতিটি উপজেলায় হাজার-হাজার পতাকা উড়বে। অনেকটা আনন্দে আত্মহারা জুঁই জেসমিন।

পাঁচ উপজেলায় পতাকা বিতরণের পাশাপাশি থাকছে জুঁই জেসমিনের লেখা ‘পতাকার সমাহার’ নামে ভ্রাম্যমাণ গল্প আবৃত্তি ও ঘরে ঘরে পতাকা নিয়ে নূরতাজমিনের রচনা ও সুরে, শিল্পী জ্যোতিষ চন্দ্র ও তার দলের দুটি মৌলিক গান।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘরে ঘরে পতাকা বিতরণে সরকারের কাছে জুঁই জেসমিনের তিনটি প্রস্তাবনা হচ্ছে-

১. মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সাংবিধানিক ভাবে সর্বকালের জন্য পতাকার মাঝে ৭মার্চের অবয়ব অলংকৃত করা হোক। কারণ, পতাকা একটি দেশের দলিল, যাঁর জন্য এ দেশের জন্ম একটি পতাকার জন্ম, সেই পতাকার মাঝে তাঁর অবয়ব থাকা জরুরী, সেই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের অবয়বটি পতাকার মাঝে অলংকৃত করলে দেশ ও মানুষের মুক্তির ইতিহাস, লড়াইয়ের ইতিহাস চির প্রাণবন্ত থাকবে প্রজন্মের কাছে!

২. মহান দিবসগুলোতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হিসেবে রাখতে হবে।প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুর্য উদিত হওয়ার সাথে সাথে একমাত্র প্রধান অতিথি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দড়ি টেনে পতাকা উত্তোলন করবেন জাতীয় সঙ্গীতের সুরে সুরে । নিজ নিজ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নিজ এলাকার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যমণি না হয়ে ঠাকুরগাঁও এর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আসা হবে হরিপুরে, আর হরিপুরের মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে যাওয়া হবে ঠাকুরগাঁও বা বালিয়াডাঙ্গীতে। এতে ছাত্রছাত্রীসহ সকলের আগ্রহ বাড়বে। পতাকা উত্তোলন ও পায়রা আকাশে উড়িয়ে দেওয়ার সাথে সাথে সব ছাত্রছাত্রীসহ শিক্ষক বৃন্দ যুদ্ধের ইতিহাস শুনবেন, প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধার মুখে। এমনটি করার মূল কারণ মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকা কালীন প্রকৃত ইতিহাস সবার জানা, এমন একটা সময় আসবে মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবেনা।

৩. প্রতিবছর বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে ঘরে ঘরে বাংলার আকাশে জাতীয় পতাকা উড়বে।

জুঁই জেসমিনের তিনটি প্রস্তাব বাস্তবনার সমর্থন জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক, পাঁচ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী ও বালিয়াডাংগীর উপজেলা চেয়ারম্যান, আলী আসলাম জুয়েলসহ ঠাকুরগাঁও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী।

জুঁই জেসমিনের স্বপ্ন- সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে পতাকা উত্তোলন। তাই তিনি সৃষ্টিকর্তাকে মনেপ্রাণে ডাকেন সফলতা কামনায়।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনা বিষয়ে প্রশ্নোত্তরসহ সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান

ঢাকা :: জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতির এবং প্রকৃত অবস্থার তথ্য মানুষের কাছে লুকানো ...