‘স্টে হোম, স্টে সেইফ’

মোঃ শাহীন :: বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি বাক্য ‘স্টে হোম, স্টে সেইফ।’ যা বাংলায় বললে হয় ‘ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন।’ বর্তমান সময়ে সকল সরকারি কর্মকর্তা,  কর্মচারী  থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা,  কোম্পানি এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পর্যন্ত এই বাক্যটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।  কেন এই বাক্যটি বার বার বলা হচ্ছে আমরা কি জানি? এটি বার বার বলার কারণ হচ্ছে সকল মানুষকে সচেতন করা। বর্তমান বিশ্বময় মহামারী করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে মানুষকে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে রক্ষা করা।
.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ কে মহামারী ঘোষণা করেছে। মহামারীর মানে তো সকলের জানা। তাই নয় কি? মহামারী হলো এমন এক ধরনের অবস্থা যা ব্যাপক মৃত্যুর মিছিল নিয়ে আসে। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। কে কার সৎকার করবে? এমন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনটিই ঘটছে। ইতালি, স্পেন, আমেরিকার মতো উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশ গুলো আজ মৃত্যু পুরীতে পরিনত হয়েছে। কোন ভাবেই ঠেকাতে পারছে না এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসকে। চিকিৎসকরা তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যতটা মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যায়।
.
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে রাস্তা ঘাটে অসংখ্য লাশ পরে আছে। স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো হিমশিম খাচ্ছেন এসব মৃত দেহ গুলো সৎকারে। কোথায় রাখবে এতো লাশ? বাড়িতে বাড়িতে মানুষ মরে পরে আছে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষ মারা গেলে সাধারণ মানুষ ভয়ে এগিয়ে আসে না। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই পরিবারের সদস্যরাও মৃত দেহ সৎকারে এগিয়ে আসে না।
.
সত্যিকার অর্থে ‘ঘরে থাকুন,  নিরাপদ থাকুন।’ এই কথার মর্মার্থ কি আমরা জানি?  হয়তোবা অনেকে জানি। আবার অনেকে জানিও না। অনেকে আবার জেনেও মেনে চলি না। চলি কি? অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিভিন্ন মহল থেকে বার বার করে বলা হচ্ছে ঘরে থাকার জন্য। তাহলে কেন শুনছি না আমরা?  কেন মানছি না আমরা?  আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ঢেকে  আনছি না তো? হ্যা, নিজেরা নিজেদের বিপদ ঢেকে আনছি। খাল কেটে কুমির নিয়ে আসছি।
.
আসলে আমাদের মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তা না হলে এতো করে বলার পরও আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে বাহিরে ঘুরতে পারতাম না।আমরা কবে সচেতন হব?  আমাদের দেশ মৃত্যুপুরীতে পরিনত হওয়ার পর? বড়ই দুঃখের বিষয়,  পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসন বার বার এ্যাকশনে যাওয়ার পরেও সচেতন হচ্ছি না! তারা আমাদের বিভিন্নভাবে বোঝাচ্ছেন। আমরা কি একটি বারও নিজেদের ও প্রিয়জনদের কথা ভাববো না? আমরা যে  প্রিয়জনদের বড়ই ভালবাসি। তাহলে তাদের রক্ষার জন্য হলেও তো আমাদের ঘরে থাকা উচিত।
.
গত দুদিন আগে শুরু হলো নতুন বছর ১৪২৭ সন বাংলায়। এই নতুন বছরে ঘরে থাকার প্রত্যয় নিয়ে কি আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি না? পারি না কি দেশ ও দশকে রক্ষা করতে?  আমাদের একটু সচেতনতাই পারে এই বিশ্বময় মহামারী কোভিড-১৯ থেকে আমাদের বাঁচাতে।আসুন আমরা সচেতন হই। তা না হলে ভয়ংকর কিছু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে । মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আমরা। সুযোগ পেলেই আঁকড়ে ধরবে!
.
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি আঁতকে ওঠার মতো। আজ ১৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৬০,৯২৭ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ১,৩৪,৩৫৪ জনের। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৫,১১,৩৫৬ জন। বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১২৩১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের এবং সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৪৯ জন। এ পরিসংখ্যান আঁতকে ওঠার মতো।
.
এখনো সময় আছে, মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে ও নিজের পরিজনদের বাঁচানোর। এখনই সময় সচেতন হওয়ার। সচেতনতাই পারে এই মহামারী রুখতে। তাই  আবারও বলি- “Stay home,  stay safe.”
.
“নিজে সচেতন হোন,  অন্যকে সচেতন করুন। নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচতে দিন।”
.
.
.
.

মোঃ শাহীন

লেখক: শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি। [email protected]

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হীরেন পণ্ডিত’র কবিতা ‘দেশরত্ন তুমি ফিরে এসেছিলে বলে’

দেশরত্ন তুমি ফিরে এসেছিলে বলে – হীরেন পণ্ডিত সেদিন সকালে পাখি তখনো ডাকেনি ভোর হবার আগেই ঘাতকের বুলেট কেড়ে নেয় জাতির পিতার প্রাণ, এরপর একে একে ঘাতকের টার্গেট হয় পরিবারের সবাই বুকফাটা আর্তনাদ করে কেঁদে উঠেছিলো দেশবাসী, খবর শোনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো পৃথিবী! বাংলার আকাশটা বড্ড কষ্ট পেয়েছিলো সেদিন, সমুদ্রের ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে কেঁদেছে বালুরাশির উপর ...