সজ্ঞিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ::
স্কুল-কলেজের মাঠে বসে সাপ্তাহিক গবাদিপশুর হাট! কয়েক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করেন গলাচিপার চিকনিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিকনিকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং চিকনিকান্দি কলেজে। কিন্তু এ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বাজারের দিন বসে গরু-ছাগলের হাট।
গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ গবাদিপশু বিক্রির হাট বসছে। এতে বিদ্যালয়ের লেখাপড়া, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও খেলাধুলায় বিঘ্ন ঘটলেও হাট স্থানান্তর করা হচ্ছে না। তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধান একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন হাট স্থানান্তর করতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে শতশত গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, গরুর হাট বসায় তারা ক্লাসে ঠিকমতো বসতে পারে না। প্রচণ্ড দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে বসতে হয়। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, স্কুলের সামনে হাট বসার কারণে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকেন। যদিও বুধবার সকালে স্কুল মাঠ পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু দুর্গন্ধ থেকেই যায়।
চিকনিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা দেবী জানান, হাটের কারণে প্রতি মঙ্গলবার ৪টা পর্যন্ত ক্লাস নেয়া যায় না। তার আগেই ছুটি দিয়ে দিতে হয়। এদিকে চিকনিকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর মল্লিক জানান, তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি বুধবার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করান। মঙ্গলবার স্কুল ছুটি হলে এই হাটের জন্য বাচ্চারা বের হতেও পারে না ।
অন্যদিকে চিকনিকান্দি কলেজের অধ্যক্ষ সমরেশ চন্দ্র নাথ জানান, কলেজের বারান্দায় গরু-ছাগল বেধে রাখা হয়। মাঠ নোংরা থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। তিন প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক চেষ্টা করেও গরু-ছাগলের হাট সরানো যায়নি।
চিকনিকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রিয়াদ জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চেষ্টা করছেন স্কুল মাঠ থেকে গরু ছাগলের হাটটি সরিয়ে নেওয়ার। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজর সামনে থেকে এই গবাদিপশুর হাট কিছুদিনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হবে।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here