স্কুল কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ: অপসারণ দাবী

অনিয়মের অভিযোগজহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আবদুল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানি, শিক্ষার্থীদের মারধর, বিদ্যালয়ে নেশা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সভাপতির অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। অপরদিকে যৌন হয়রানি, অনৈতিক কার্যকলাপ ও অহেতুক হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকাবৃন্দ।

সভাপতির অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার কারণে স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক মহলও এসব অপতৎপরতার কারণে সন্তানদের শিক্ষা জীবন নিয়ে শংকিত হয়ে উঠেছেন। সভাপতির এ রকম অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

অভিযোগ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন বিভিন্ন সময়ে শিক্ষিকাগণের দৈহিক গঠন এবং অঙ্গভঙ্গি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন এবং রাতে শিক্ষিকাগণদের ফোন করে কু-প্রস্তাব দেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আবদুল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি নাম করা বিদ্যালয়। ২০১৬ সালে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন জসিম উদ্দিন। সভাপতি হওয়ার পরে পদটাকে লোভনীয় এবং নিজের প্রভূত্ব বিস্তারের ক্ষেত্র মনে করেন। শুরু হয়ে যায় তার প্রভূত্ব বিস্তারের কাজ। তারেই ধারাবাহীকতায় তিনি প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসেন এবং কখনো অফিস কক্ষে, কখনো বারান্দায় আবার কখনো শ্রেণীকক্ষে গিয়ে বসে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়মনীতি ও পাঠ বহির্ভূত, তাঁর মন গড়া কথা-বার্তা বলে শিক্ষকগণকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন। তাঁর মনগড়া ও স্বেচ্ছাচারীতা নিয়ে শিক্ষকগণ দ্বিমত করলেই তিনি শিক্ষকগণের সাথে ব্যঙ্গ আচরণ করেন। তিনি বলেন এখানে থাকতে হলে আমার কথা মানতে হবে, আর না মানলে মানার ব্যবস্থা করব বলে হুমকি প্রদান করেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন।

জসিম প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে বিদ্যালয়ের দোতলায় বসে আড্ডা দেন এবং নেশা করেন। বিদ্যালয়ে বেত হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারিরিক শাস্তি প্রদান করেন, এ সময় তিনি প্রকাশ্যে ধুমপান করেন। তাঁর এহেন ব্যবহার, মনগড়া ও স্বেচ্ছাচারী কথা-বার্তা, নিজের একক সিদ্ধান্তে কাজ করা, ইত্যাদি কারণে ম্যানেজিং কমিটির ৭ সদস্য তাঁর সাথে কাজ করবে না মর্মে অনাস্থা প্রদান করেন। তিনি শিক্ষকদের বদলীসহ নানা হয়রানির ভয় দেখান। অফিস কক্ষে বসে শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে বলেন টি ও, এ টি ও এরা আমার পকেটে থাকে। সবাইকে আমার কথা শুনতে হবে না শুনে যাবে কোথায়।

আরো জানা যায়, জসিম সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন রকম অনিয়ম ও দূনীতির রাজত্ব কায়েম করে আসছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের স্লিপের টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ভাউন্ডারীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিয়নের সাথে প্রতিনিয়ত অসদাচরণ করে আসছে।

তাছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত শারীরিক শাস্তি প্রদানের ফলে শিক্ষার্থীরা ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। স্থানীয়রা জানান, সভাপতি জসিমের যৌন হয়রানি, অযাচিত আচরণ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অনিয়ম, দূনীতি, স্বেচ্ছাচারি সিদ্ধান্ত, নৈতিকতা বিবর্জিত কথা-বার্তার কারণে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিদ্যালযের লেখা-পড়ার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। তার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীণতা ও মানসিক চাপে ভূগছেন। তাই বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাসহ লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সভাপতি জসিমের অপসারণের দাবী জানান তারা।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ শাজাহান আলি বলেন, অভিযোগের আলোকে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে সাবেক সেনা সদস্যকে হত্যা

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :: গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীতে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে থানা ...