ডেস্ক রিপোর্ট::  আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৪) জন্য দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রথম তিন ধাপে ৩ লাখ ৫ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। আর অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩ জন শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্কুলে ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এরপর শুরু হয় দৈবচয়ন পদ্ধতিতে লটারি। ফলাফল প্রস্তুত করা সম্পূর্ণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। পরে দুপুর ২টার দিকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর বিকেলে প্রথম ও দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এবার ভর্তির জন্য তিন ধাপে শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে তিন লাখ (৩ লাখ ৫ হাজার ৫২৮ জন) শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ জন শিক্ষার্থী। আর বেসরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষার্থী।

একই সঙ্গে আরও দুটি অপেক্ষমাণ তালিকাও করা হয়েছে। আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে অপেক্ষমাণদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। দুটি অপেক্ষমাণ তালিকায়ও প্রায় তিন লাখ (২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩ জন) শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকায় সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৮০ হাজার ৪৭৯ জন শিক্ষার্থী, আর বেসরকারি স্কুলে সুযোগ পেয়েছে ৯৬ হাজার ২১৮ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকায় সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৫৭ হাজার ৭৭৪ জন শিক্ষার্থী। আর বেসরকারি স্কুলে সুযোগ পেয়েছে ৬৪ হাজার ৬১২ জন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে মাউশির মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক ও ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন বলেন, আজ ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তিন ধাপে শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে মাউশি থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠান পরবর্তী নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল সিট (অপেক্ষমাণ তালিকাসহ) ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়েছে। ফলাফল সিটের প্রথম তালিকা অনুযায়ী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে, প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমিক নম্বর অনুসারে চার কর্মদিবস এবং দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমিক নম্বর অনুসারে তিন কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

মাউশির সূত্রমতে, এবার কেন্দ্রীয় এই লটারির অধীনে আসা সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি ৩ হাজার ৮৪৬টি বিদ্যালয়ে মোট আসন রয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ৯৪টি। এসব আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিল ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯২ জন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী। মোট আসনের মধ্যে ৬৫৮টি সরকারি বিদ্যালয়ে আসন আছে ১ লাখ ১৮ হাজার ১০১টি। এর মধ্যে আবেদন করেছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৩টি জন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী।

লটারির ফলাফল ই-মেইলে স্কুল প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে মাউশি। আর শিক্ষার্থীরা কোন স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, সেটি আবেদনের সময় তাদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস করে জানিয়ে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে মনোনীত সবাই এসএমএস পাবে।

অন্যদিকে, যেসব শিক্ষার্থীরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়নি, তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দুটি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here