সেলিনা পারভীন একজনই

সাংবাদিক সেলিনা পারভীন

রহিমা আক্তার মৌ :: বাংলাদেশের নীল আকাশ সেদিন লাল হয়ে গিয়েছিলো হায়নার অস্ত্রের আঘাতে। ঝরে ঝরে পড়ছিলো লালরক্ত বাংলার জমিনে।টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াতে রক্ত ঝরতে ঝরতে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার উপকন্ঠে। চারদিকে চাপা উল্লাসের পদধ্বনি। ঠিক সেই মুহুর্তে সংগঠিত হলো ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞ। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পরাজিত পাকিস্তানী বাহিনী নবউদীয়মান জাতিকে চিরতরে স্তব্দ করে দিতে তাদের এদেশীয় রাজাকার, আল বদর, আল-শামস এবং বিহারীদের নিয়ে ঘঠিত কিলিং স্কোয়ার্ডের মাধ্যমে খুন করে দেশের শিক্ষক-সাংবাদিক-ডাক্তার সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

‘চলেই যদি যাবে তবে এসেছিলে কেন আমার দ্বার প্রান্তে’… এটা হতে পারে এক গানের কলি, তবে আমাদের সাংবাদিক সেলিনা পারভীন ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবার আসবেন বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর ফিরে এলেন না একমাত্র সন্তান সুমন জাহিদের কাছে। এই বীর নারী সাংবাদিক ফিরে না আসলেও এসেছিল আমাদের স্বাধীনতা। তিনি তো গেলেন, চলে গেলেন সুমন জাহিদ ও। গত  ১৪ জুন ২০১৮  বৃহস্পতিবার শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদ ও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ১৪ জুন সকালে রাজধানীর খিলগাঁও বাগিচা এলাকার রেললাইন থেকে সুমন জাহিদদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-বিমানবন্দর রেললাইন অর্থাৎ আপ লাইনে তিনি ট্রেনে কাটা পড়েন বলে ধারণ করছে পুলিশ। তবে কোন ট্রেনে তিনি কাটা পড়েন তা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। এ সময় তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।

এটি হত্যা না দুর্ঘটনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ সুরতহালের জন্য কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়। সুমন জাহিদ উত্তর শাজাহানপুর, ঝিলপাড় মসজিদ সংলগ্ন ৩১২ নং বাড়িতে থাকতেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিলেন। তিনি বেসরকারি ব্যাংক দ্য ফারমার্স ব্যাংকে চাকরি করতেন। এর আগে তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল নাইনে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন। যুদ্ধাপারাধীদের বিচারের দাবিতে রাজপথেও সোচ্চার ছিলেন তিনি।

আজ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আমরা পারিনি দেশটাকে ঝঞ্ঝাট মুক্ত করতে। যে স্বপ্ন দেখেছেন সেলিনা পারভীন সেই স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়েছে কিন্তু কি করতে পেরেছি আমরা এই বীর নারীর জন্য। মাঝে মধ্যে অফিসিয়াল ঠিকানায় এই নামটি ব্যবহার হয়। কিন্তু আমরা কয়জনে জানি এই সাংবাদিকের আসল কাহিনী। সত্যি বলতে আমিও জানতাম না, ভোরের কাগজের ঠিকানা লিখতে গিয়ে নামটা চোখে পড়ে। ৩১ মার্চ এই নারীর জন্মবার্ষিকীতে পত্রিকাগুলো দেখে বুঝতে পারি কে সেই সেলিনা পারভীন।(২০০৯ সালের কথা)।

১৯৩১ সালের ৩১ মার্চ নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ছোট কল্যাণনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সেলিনা পারভীন। পিতা মৌলভী আবিদুর রহমান এবং মাতা মোসাম্মৎ সাজেদা খাতুন। মোঃ আবিদুর রহমান পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। সেলিনা পারভীন এর প্রকৃত নাম ছিলো মনোয়ারা বেগম। ১৯৫৪ সালে তিনি এফিডেভিট করে সেলিনা পারভীন নাম গ্রহণ করেন।

সেলিনা পারভীনের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় ফেনীর সরলা বালিকা বিদ্যালয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ সালে ছাত্রজীবন বিঘ্নিত হয়। এদিকে তাঁদের ফেনীর বাড়ি দখল হয়ে যায়। পরিবারের সবাই ফিরে আসেন নিজ গ্রাম ছোট কল্যাণনগরে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই থেকেই তাঁর সাহিত্যের অনুরাগী হয়ে গল্প ও কবিতা লিখা শুরু করেন। ১৯৪৫ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনগঞ্জে থাকার সময় কলকাতা নিবাসী শিক্ষয়িত্রী উমার সাহচর্য লাভ করেন সেলিনা পারভীন। শিক্ষয়িত্রীর সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রাণিত হন। সে সময়ে পূর্বদেশ, আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, সংবাদ, ইত্তেফাক ও বেগম পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতো।

গ্রামীণ কুসংস্কারের মারপ্যাঁচে তাঁর পড়ালেখায় বেঘাত ঘটে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার চাপে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে দেয়া হয়। স্বাধীনচেতা সেলিনা পারভীন সে সংসার করেননি। ঐ বয়সে স্বামীর সাথে থাকার কথা ভাবতে পারেননি। ১৯৪৮ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্যের পথে যাত্রা শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধ ও প্রতিবেদন লিখতেন। আবার পড়ালেখা শুরু করেন, ১৯৪৯ সালে তিনি প্রাইভেট ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মেট্রিকুলেশনে কৃতকার্য হতে পারেন নি।

ফেনীতে ছাত্র পড়িয়েই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়, ১৯৫৬ সালে চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৫৭ সালে তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালে নাসিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে রোকেয়া হলে কিছুকাল মেট্রনের চাকরি করার পরে ১৯৬০-৬১ সালে আজিমপুর বেবিহোমে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬২ সালে বিবাহ হয় ফেনীর ছাগলনাইয়া নিবাসী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর-এর সঙ্গে। একমাত্র পুত্র সুমন জাহিদের জন্ম ১৯৬৩ সালের ৩১ মে। ১৯৬৫ সালে সলিমুল্লাহ এতিমখানায় কিছুকাল চাকরি করেন। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর-এর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৬ সালে তিনি সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সম্পাদকের সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে যোগ দেন সাপ্তাহিক ললনা পত্রিকায়। এ সময় থেকেই নিবন্ধ রচনা ও সাংবাদিকতায় দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে আমৃত্যু ‘সাপ্তাহিক ললনা’য় কাজ করেন। ললনায় কাজ করার সময় ১৯৬৯ সালে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বের করেন শিলালিপি নামে একটি পত্রিকা। তিনি নিজেই এটি সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। শিলালিপি ছিল সেলিনার নিজের সন্তানের মত। দেশের প্রায় সব বুদ্ধিজীবীদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত শিলালিপি সকলেরই নজর কেড়েছিল। স্বাধীনতার পক্ষের পত্রিকা শিলালিপি। এই সুবাদে ঢাকার বুদ্ধিজীবী মহলে অনেকের সাথেই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন তিনি।

১৯৬৯-এর রাজনৈতিক আন্দোলনে উত্তাল বাংলাদেশ৷ নিজেও শরিক হন গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলন কর্মকাণ্ডে৷ শরিক হতেন বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদে আর সভায়ও৷ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখদের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে সমাজতন্ত্রের প্রতিও আস্থাশীল হয়ে পড়েন তিনি৷ এরই মধ্যে শুরু হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ৷ মুক্তিযুদ্ধের সময় সেলিনা পারভীন ঢাকায় ছিলেন৷ তাঁর বাসায় মাঝে মাঝে রাত হলে কয়েকজন তরুণ আসতেন৷ খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাওয়ার আগে এরা সেলিনা পারভীনের কাছ থেকে সংগৃহীত ঔষধ, কাপড় আর অর্থ নিয়ে যেতেন৷ শিলালিপির বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়েই তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতেন৷ এই তরুণদের সকলেই ছিলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা৷

শিলালিপি বের করলেন এমন এক সময় যখন বাংলাদেশের দিগন্ত মুক্তির আভাসে রক্তিম হয়ে উঠেছে। প্রচ্ছদ আঁকতেন হাশেম খান। শিলালিপির উপরও নেমে আসে  পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর খড়্গ। হাশেম খানের প্রচ্ছদ করা একটি শিলালিপির প্রকাশিতব্য সংখ্যা নিষিদ্ধ করে দেয় পাকিস্তান সরকার। পরে প্রকাশের অনুমতি মিললেও নতুনভাবে সাজানোর শর্ত দেয়া হয়। সেলিনা পারভীন বরাবরের মতো প্রচ্ছদ না নিয়ে তাঁর ভাইয়ের ছেলের ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ করে আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে শিলালিপির সর্বশেষ সংখ্যা বের করেন। কিন্তু এর আগের সংখ্যার জন্যই সেলিনা পারভীন পাকিস্তানী ও তাদের দালালদের নজরে পড়ে যান—যেটাতে ছিল দেশবরেণ্য বুদ্ধীজীবীদের লেখা এবং স্বাধীনতার পক্ষের লেখা। তাই কাল হলো। শিলালিপির আরেকটি সংখ্যা বের করার আগে নিজেই হারিয়ে গেলেন।

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। দেশ স্বাধীন হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। বেশ কিছু অঞ্চল ইতোমধ্যে মুক্ত হয়ে গেছে। সাংবাদিক সেলিনা পারভীন তখন বাস করতেন সিদ্ধেশ্বরীর ১১৫ নং নিউ সার্কুলার রোডে তার নিজের বাড়ীতে। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী যে বিপুল সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করে সেলিনা পারভীন তাঁদের একজন। ওই বধ্যভূমিতে চোখবাঁধা অবস্থায় পড়েছিল তাঁর মরদেহ। যার চোয়ালে ছিলো বেয়নেটের খোঁচার দাগ আর বুকে গুলিঃ ১৮ ডিসেম্বর সেলিনা পারভীনের গুলিতে-বেয়নেটে ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে৷ খুব শীতকাতুড়ে সেলিনার পায়ে তখনও পড়া ছিল সাদা মোজা । এটি দেখেই তাঁকে সনাক্ত করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মা শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনকে নিয়ে আর ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সম্পর্কে ছেলে সুমন জাহিদ লিখেন-

“মায়ের স্নেহ কী জিনিস তা বুঝে ওঠার আগেই আমি মাকে হারাই। তাঁর হারিয়ে যাওয়ার কাহিনীটা আমার কাছ থেকে কোনোদিন হারিয়ে যাবে না। যেমন যায় না অন্যসব সন্তানের ক্ষেত্রেও। আমার মায়ের হারিয়ে যাওয়ার দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্ভাগ্যজনক দিন। সেদিন ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। দেশ স্বাধীন হবে। কোনো কোনো অঞ্চল মুক্ত হয়ে গেছে। শীতের সকাল। তখন আমার বয়স পৌনে আট বছর। আমরা থাকতাম সিদ্ধেশ্বরীতে, তৎকালীন ১১৫নং নিউ সার্কুলার রোডে। আমাদের বাসায় আমরা তিনজন মানুষ থাকতাম। আমি, মা আর আমাদের উজির মামা। হঠাৎ দূরে একটা গাড়ির আওয়াজ হলো। আমাদের বাসার উল্টো দিকে খান আতার বাসার সামনে ইপিআরটিসির ফিয়াট মাইক্রোবাস ও লরি থামে। সেই বাসার মেইন গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেল কিছু লোক। আমরা তিনজন ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে দেয়ালের ফাঁক দিয়ে এই দৃশ্যটা দেখি। এবার একটি গাড়ি এসে থামে আমাদের বাসার সামনে। ছাদে দাঁড়িয়ে দেয়ালের ফাঁক দিয়ে আমরা দেখি কয়েকজন লোক আমাদের বাসায় ঢুকছে। তাদের সবারই একই রঙের পোশাক ও মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা। এরা বাসার মেইন লোহার কলাপসিবল দরজার কড়া নাড়ছে। আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের এক ভদ্রলোক বের হয়ে কলাপসিবল গেট খুলে দেয়। গাড়িতে করে আসা লোকগুলো ভদ্রলোকের কাছে সেলিনা পারভীনের পরিচয় জানতে চায়। ভদ্রলোক আমাদের ফ্ল্যাটটি দেখিয়ে দেন। ভদ্রলোককে ঘরে চলে যেতে বলে লোকগুলো আমাদের ফ্ল্যাটে এসে নক করে। আম্মা দরজা খুলে দেয়। তারপর লোকগুলো আম্মার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং বাসায় কে কে থাকে তাও জেনে নিল। এ সময় আম্মার সঙ্গে লোকগুলোর বেশ কিছু কথা হয়। আমি আর উজির মামা ততক্ষণে সিঁড়ির মাঝামাঝি এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা উঁকি দিলে ওরা দেখে ফেলে। আমাদের দিকে বন্দুক তাক করে। আমি ও উজির মামা ভয় পাই। আম্মা আমাদের ডেকে নিয়ে লোকগুলোর সঙ্গে পরিচয় করে দেয়। আমি আম্মার কাছে চলে আসি। এরপর আম্মাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলে লোকগুলো। আম্মা লোকগুলোকে বলেন, বাইরে তো কারফিউ। এখন যাব কীভাবে। লোকগুলো বলে, আমাদের সঙ্গে গাড়ি আছে। তাছাড়া আমাদের সঙ্গে কারফিউ পাসও আছে। কোনো সমস্যা হবে না।

আমিও তখন আম্মার সঙ্গে যেতে চাই। কিন্তু লোকগুলো আমাকে ধমক দিয়ে বলে, ‘বাচ্চা লোক নেহি জায়েগা’। তিনি আমাকে বলেন, সুমন তুমি মামার সঙ্গে খেয়ে নিও। আমি যাব আর চলে আসব। এই ছিল আমার জীবনে আম্মার কাছ থেকে শোনা শেষ কথা। ওরা আমাকে ও মামাকে ঘরের ভেতর চলে যেতে বলে। আমি মাকে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে থাকি, অনেকটা ঝাপসাভাবে। মা রান্নার সময় কোমরে একটা গামছা ঝুলিয়ে রাখতেন ময়লা হাত মোছার জন্য। ওরা মার কোমর থেকে সেই গামছাটা নিয়ে নিল। তারপর চোখ বাঁধল। হাত পিছমোড়া করে বাঁধল। ওরা আম্মাকে নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। একটু পরে মামাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ওরা বন্দুক নিয়ে কেন আসল? আম্মার কাছে কেউ তো এভাবে আসে না।’ আম্মা চলে গেলেন আর ফিরে এলেন না।”

লেখক- সাহিত্যিক কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক। rbabygolpo710@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তাহমিনা কোরাইশী’র কবিতা ‘বিজয়’

বিজয় -তাহমিনা কোরাইশী সব ব্যারিকেড আজ ধূলিতে মিলায় রয়ে যায় একটি ধ্বনি ...