পিতৃহারা শিক্ষার্থীর হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন কুশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন মানিক
বিশেষ প্রতিবেদক।।
মাত্র ৭৫০ টাকার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮ নং কুশাখালীর ফরাশগঞ্জে অবস্থিত মুনছুর আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা সেই শিক্ষার্থীর বাড়িতে ছুটে গেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংগঠনের অনেকেই। মেয়েটির কথা শুনে চেয়ারম্যান নিজেই কাঁদলেন এবং উপস্থিতিদের মাঝে একটি হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে এ সময়।
স্থানীয় জাতীয়তাবাদী প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সহায়তায় মেয়েটির হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন চেয়ারম্যান। প্রতি মাসে তাকে ১ হাজার টাকা এবং তার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিক। এছাড়াও ৮ বছরের তার যে ভাইটি ব্রিকফিল্ডে কাজ করে তাকেও পড়াশুনার ব্যাপারে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
মেয়েটির পাশে বসে কাঁদলেন চেয়ারম্যান নিজেই। এ সময় উপস্থিতিদের মাঝে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়
তিনি ইউনাইটেড নিউজকে বলেন, ঘটনাটা হৃদয় বিদায়ক। একটা ছোট্ট মেয়ের সাথে যা ঘটেছে তা কাম্য ছিল না। ঘটনা জানার পর আমি নিজে স্কুলে ছুটে গিয়েছি। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছি এবং মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য নিয়েছি। প্রধান শিক্ষক ঘটনা মিথ্যা বললেও বাকি সবাই বলছে ঘটনা সত্য। তাছাড়া মেয়েকে যে পড়ালেখা না করে বাসা বাড়িতে কাজ করতে বলেছে সেটিও সত্য। অন্য শিক্ষকরা বলছেন তিনি নাকি সবার সাথে এভাবেই কথা বলেন। মেয়েটার বক্তব্য আমার কাছে ভিডিও আছে। আমি বিকালে ইউএনও স্যারকে দেখাবো। তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
স্থানীয় প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের  সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ও সাধারণ সম্পাদক মা: আলাউদ্দিন মেয়েটিকে এক বছরের শিক্ষা সহায়তা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। তারাও এমন অমানবিক শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে মেয়েটিকে সেই প্রধান শিক্ষকও এখন বিনা বেতনে এবং বিনা টাকায় ভর্তি ও পড়ার সুযোগ দিতে চান বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মেয়েটির প্রতিবেশী সালাহ উদ্দিন হৃদয় বলেন, প্রধান শিক্ষক এখন তাকে ভর্তি করাতে চান এবং বেতন ছাড়াই পড়ার সুযোগ দিতে চান বলে বক্তব্য দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সদস্যদের কাছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককের বক্তব্য নিতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্তা দেখিয়ে কেটে দেন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮ নং কুশাখালীর ফরাশগঞ্জে অবস্থিত মুনছুর আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি নেননি এক দরিদ্র শিক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীর অনেক অনুরোধ করেও অন্তত একটি নতুন বই পাননি এ শিক্ষকের কাছে; বরং উল্টো তাকে লেখা পড়া বাদ দিয়ে বাসাবাড়িতে কাজ করতে পরামর্শ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধান শিক্ষক। অপমানে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ বাবাকে ঘটনাটি বলার পর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় ঐ শিক্ষার্থীর বাবা।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে এরই মধ্যে। প্রধান শিক্ষককে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি স্কুল থেকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং তারা ভুক্তভোগী মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। মূলঘটনা পড়তে ক্লিক করুন…
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here