সুমাইয়া জাহান সামিনা

সুমাইয়া জাহান সামিনা :: “আমি কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকবো ততক্ষন, যতক্ষন না তুমি একটি বার ফিরে তাকাবে”

এই কবিতাটা খুব ভালোলাগার কবিতা বৃষ্টির। কবি নিজে এই কবিতার অনেকগুলো লাইন বৃষ্টিকে নিয়ে লিখেছে।

একবার অফিসের কাজে এ শিশির চট্টগ্রাম গিয়েছিলো। বৃষ্টির যে কি কষ্ট; এতদূর যাবে শিশির!! সারারাত বসে বসে দোয়া পড়ছিলো। কেনো জানি মনে হচ্ছিলো তার যদি আর দেখা না হয় শিশির এর সাথে।

ঘন্টা কয়েক পরপর শিশির কে কল দিচ্ছিলো, কোথায় আছে?? কেমন আছে?? কি করছে??
সময় তার কাটছেনা। ঐ তিনদিনের সফরে কম করে হলেও রোজ ৫/৬ ঘন্টা বৃষ্টি কেঁদেছে।। কেমন এক হাহাকার তার মনে।
মনের ভিতর কেমন এক ব্যথা।

কোনো ভাবেই কোনো কাউকেই বোঝাবার মতো নয়।
দিন তিনেক পর ঢাকা ফিরেই বিকেল বেলা শিশির আর বৃষ্টির দেখা। সাদা রং এর ধবধবে শার্ট এ মোড়ানো মানুষটা। টগবগ করে ঘাম ঝড়ছে।
কত শুভ্র ওর মুখখানা!!
বৃষ্টির বুকে এক একটা ঢেউ আছড়ে পড়ছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে ঝাপটে ধরি একবার।

সামনে এসে বৃষ্টির হাতে শিশির একটা প্যাকেট দিলো। বৃষ্টি খুব অবাক হয়ে বললো, “কি এটা?”
শিশির মুচকি হাসে। শিশিরের হাসির একটা বিষয় হলো ওর দাঁতগুলো একটু বাঁকা। যখন খুব জোরে হাসে তখন কি যেনো একটা তাল পাওয়া যায়।

আর যখন মুচকি হাসে তখন মনে হয় কি প্রেম তার মুখে কতটা স্বচ্ছ, তার না বলা কথা!
হুম সত্যি, ও বলেনি প্যাকেট এ কি।
বৃষ্টি খুব উৎসাহ নিয়ে প্যাকেট খুলে দেখে, একটা বড় শামুক কেমন প্রেম নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। বৃষ্টি অবাক!! শামুক এ তার নাম লেখা।

জগতের সব সুখ আজ বৃষ্টির হাতে। মনের ভেতর কেমন এক জোয়ার-ভাঁটা চলছে।
বৃষ্টি তেমন কিছুই বললো না । শুধু একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললো, টাকা নষ্ট করতে গেলেন কেন??
শিশির বললো, জানো কলিগদের না বলে চুপি চুপি গিয়ে বানাই আনছি তোমার জন্য।
অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো ফিরতে ফিরতে।
তুমি খুশি তো বৃষ্টি??
বৃষ্টি বলল, হুম।

ঐদিন বৃষ্টির হাতে ছিল সবচেয়ে দামী জিনিস; যার মূল্য কোনো কিছু দিয়েই মেটানো সম্ভব না।
পুরো বিশাল আকাশের মতোন ভালোবাসা বুকে জড়িয়ে দিয়েছে ছোট এক শামুক।
এটাই বোধহয় সত্যিকারের প্রেম।

শেষ বিদায় এর দিন অনেকক্ষণ দাড়ায় থাকার পরও শিশির একবারের জন্যও পিছন ফিরে দেখেনি।
তবে কি মিথ্যে ছিল কবিতাটা??

কথাগুলো আসলে কবিতায় সুন্দর বাস্তবে নয়।
বৃষ্টি চোখ বন্ধ করে ভাবে- “আমি কিন্তু ঠিকই দাড়িয়ে আছি যতক্ষণ তুমি আমার দিকে আরেকবার না ফিরে দেখবে”

আজ আমি আছি অযত্ন-অবহেলায়….

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here