মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, সুবর্ণচর,  নোয়াখালী প্রতিনিধি ::
নোয়াখালী সুবর্ণচরে বৃদ্ধার জায়গা জমি দখল এবং বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পালক মেয়ে এবং তার জামাতা হাজী আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে,  এ ঘটনায় গতকাল ৬ জানুয়ারী  চরজব্বর  থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অসহায় বৃদ্ধা রুহুল আমিন (৭২)। 
ঘটনাটি ঘটে ০৫ জানুয়ারী (শুক্রবার) বিকেল ৪ টায় সুবর্ণচর উপজেলার ৩ নং চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের কেরানী বাজার ।
অসহায় বৃদ্ধা চরক্লার্ক ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের মৃত শেখ আহমদের পুত্র মোঃ রুহুল আমিন (৭২) এবং তার স্ত্রী আয়েশা বেগম (৬২)।
বৃদ্ধা রুহুল আমিন বলেন, আমার পালক মেয়ে নাহিদা আক্তার ওরপে নাজমা আক্তারের বাবা মা মারা গেলে ৩ বছর বয়স চলাকালিন সময়ে তাকে আমরা লালন পালন করে বড় করি,  বিবাহ যোগ্যা হলে ২০ বছর আগে তাকে আমরা আওয়ামিলীগ নেতা দক্ষিণ চরক্লার্ক মৃত ফকির আহাম্মদের পুত্র আব্দুর রহমান (৪২)  কাছে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার দিয়ে বিবাহ দেই।  বিবাহের ৫ বছর পর চতুর আব্দুর  রহমান আমার পালক মেয়ে নাজমা কে তালাক দিবে  মারধর করবে  নানা অজুহাতে কেরানী বাজার একটি দোকান ভিটি দখল করে ন্যায়।
আমাকে ভরন পোষন করাবে মর্মে তাকে বাড়ী করার জন্য কিছু জায়গা দিতে বলে নানা রকম টালবাহানা করে যেহেতু আমার কোন নিজ সন্তান নেই তাই আমি সরল বিশ্বাসে তাকে ৬০ ডিসিমেল জায়গা ওসিয়ত করে দেই, জায়গা পেয়ে সে আমাদের ভরন পোষনতো দূরের কথা উল্টো আমার সব জায়গা সম্পত্তি দখল করে নেবার পায়তারা করে পরে নির উপায় হয়ে আমার দেয়া অসিয়ত নামা আমি ক্যান্সেল করে দি এর পরেই আমার ওপর শুরু হয় নানা নির্যাতন,  মারধর হুমকি ধমকিসহ নানা হয়রানি।
ঘটনার দিন ৫ জানুয়ারী শুক্রবার বিকেল ৪ টায় সে আমার জায়গায় ভেকু মেশিন দিয়ে প্রজেক্ট কাটতে গেলে আমি বাঁধা দেই এতে আমার পালক মেয়ে নাহিদা আক্তার নাজমা আমাকে মারধর করে।
এলাকাবাসী বলেন, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধার শুশ্বরের জায়গা জমি দখল করার পায়তারা করে আসছে, একাধিকবার শালিস বিচার করা হলেও তারা তা মানেনা।
প্রত্যক্ষদর্শী ভেকু মেশিন চালক বলেন, আব্দুর রহমান আমাকে মাটি কাটতে সেখানে পাঠায় মাটি কাটা শুরু হলে বৃদ্ধা বাঁধা দেয় পরে বৃদ্ধার পালক মেয়ে নাজমা বৃদ্ধ বাবাকে আমার সামনে মারধর করে।
অভিযুক্ত পালক মেয়ে  নাজমা এবং জামাতা আব্দুর রহমান বলেন, তাদের দেখবাল করার জন্য তারা নিজেরাই আমাদেরকে বাড়ীতে নিয়ে আসে এবং  আমাদেরকে ৬০ ডিসিমেল জায়গা দেয় এখন সে জায়গায় কাজ করতে গেলে তিনি বাঁধা দিচ্ছেন, ওসিয়ত ক্যান্সেলের বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা।  তবে কিছু লোকের ইন্ধনে আমার বাবাকে নানা ভাবে কুপরামর্শে আমাদের মাঝে বিবেদ সৃস্টি করছে বলে দাবী করেন অভিযুক্ত নাজমা এবং আব্দুর রহমান।
চরজব্বর থানার এসআই নুর ইসলাম বলেন, দখলের বিষয়ে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই, এবং বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে কাজ বন্ধ করে দিয়ে আসি। এবং নির্বাচনের পর উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলি।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here